২৬ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় পুলিশের ওপর ডাকাতদের হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি। সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত জামালপুর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সময়ের পর থেকেই জামালপুর ও শিমুলিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরে অবস্থান করছেন, দোকানপাট বন্ধ এবং রাস্তায় মানুষের যাতায়ত নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা ও শাখা নদীতে অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা এবং নৌযানে চাঁদাবাজি চলছে নয়ন, পিয়াস, রিপন ও লালু বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে। গত এক বছরে এই এলাকায় কয়েক দফা গোলাগুলিতে একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার জামালপুরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, যা শুরুতে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তবে শনিবার ডাকাতরা ক্যাম্প সরানোর জন্য মানববন্ধন ও হুমকির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে।
গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পাঁচটার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসে। মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি ও ককটেল নিয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টার গোলাগুলিতে ডাকাতরা প্রায় ১০০ রাউন্ড এবং পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশের শক্ত প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা শেষে ট্রলার নিয়ে মতলবের দিকে চলে যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডাকাত দলের ভয়ে মানুষ মুখ খোলার সাহস পান না। যেকোনো প্রতিবাদে আঘাতের ভয় রয়েছে। ফলে ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পের কারণে কিছু মানুষ ফিরতে শুরু করেছে এবং ডাকাতদের কার্যক্রমও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হামলায় যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পুলিশ কোনো ডাকাত-সন্ত্রাসীকে ছাড় দেবে না এবং গুয়াগাছিয়ার সব সন্ত্রাসী নির্মূল করা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা পুলিশি তৎপরতার অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে।