নৌকায় তুলে ভারত সমুদ্রে ফেলে দেয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৪ বার
নৌকায় তুলে ভারত সমুদ্রে ফেলে দেয়ে

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে—এমনই ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এই ঘটনাটি প্রকাশ করেছে, যা নতুন করে ভারত সরকারের মানবাধিকার নীতির প্রশ্ন তুলেছে। আটক হওয়া শরণার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের বন্দির মতো হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে সমুদ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে জীবন রক্ষা পেলেও এখন তারা মিয়ানমারে যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।

Image

ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নূরুল আমিন নামের এক শরণার্থী জানান, গত ৯ মে তার ভাই কাইরুলসহ অন্তত চারজন আত্মীয়কে ভারত থেকে সমুদ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনই তিনি শেষবার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে পারেন কীভাবে তাদেরকে নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে আন্দামান সাগরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়া হলেও এ ধরনের আচরণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছু শরণার্থী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং পরে মিয়ানমারে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে আশ্রয় নেন।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। সেনা জান্তার দমননীতি, জাতিগত মিলিশিয়া ও প্রতিরোধ বাহিনীর সংঘাত পুরো দেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ফলে ভারত থেকে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন না। সয়েদ নূর নামের এক শরণার্থী জানান, “আমরা মিয়ানমারে নিরাপদ নই। পুরো দেশটাই যেন যুদ্ধক্ষেত্র।” তিনি এক কাঠের ঘরে আশ্রিত হয়ে ভিডিও কলে এ কথা জানান, পাশে ছিলেন আরও ছয়জন রোহিঙ্গা।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে তাদের দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে আনা হয়। পরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় এবং শেষপর্যন্ত সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। জন নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেছেন, “আমাদের বন্দির মতো ব্যবহার করা হয়েছিল। হাত-পা বেঁধে চোখ ঢেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল সমুদ্রে।”

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রুজ এই অভিযোগের ‘উল্লেখযোগ্য প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি জেনেভায় ভারতের প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, তবে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তারা কোনো উত্তর দেয়নি।

ভারতে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং বিদেশি আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করছে। বর্তমানে ভারতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ হলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।

এর বিপরীতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছেন, যারা মূলত ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনমূলক অভিযানের সময় পালিয়ে এসেছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের কখনো নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি, বরং তারা সর্বদা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এসেছে।

Image

ভারতের বিরুদ্ধে এই নতুন অভিযোগ শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকেই ইঙ্গিত করে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং শরণার্থী সংকটের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভারত এই অভিযোগে কী প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং আন্তর্জাতিক মহল কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত