আদালতের রায়ে পদচ্যুত পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪ বার
থাইল্যান্ডে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা: আদালতের রায়ে পদচ্যুত পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আভাস দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার পদচ্যুতি ঘটায়। শুক্রবার ঘোষিত এ রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তাকে নৈতিক অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন ২০০৮ সালের পর আদালতের রায়ে অপসারিত থাইল্যান্ডের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী।

রায়ের পেছনের কারণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করেছে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ। সেই কথোপকথনে পেতংতার্নকে অত্যন্ত আনুগত্যপূর্ণ ভঙ্গিতে কথা বলতে শোনা যায়, যেখানে তিনি নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে মন্তব্য আদালতের। এছাড়া এক পর্যায়ে তিনি এক জ্যেষ্ঠ থাই সেনা কর্মকর্তাকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। আদালতের ভাষায়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রয়োজনীয় সততা ও নৈতিকতার মানদণ্ড রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জাতীয় স্বার্থকে অবহেলা করেছেন।

এই রায়কে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, থাইল্যান্ডের বিচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক ও রাজতান্ত্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে, আর পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার পদচ্যুতি তারই সর্বশেষ প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি সিনাওয়াত্রা পরিবারে জন্যও বড় ধাক্কা, যারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতিতে আলোচিত ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে।

পেতংতার্নের বিরুদ্ধে যে ফোনালাপের অভিযোগ উঠেছিল সেটি গত মে মাসে ফাঁস হয়। তখন থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই হুন সেনের সঙ্গে আলোচনায় পেতংতার্নকে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়। এ নিয়ে বিরোধী শিবির তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত করার দাবি জানায়। যদিও পেতংতার্ন পরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, কিন্তু সাংবিধানিক আদালত নৈতিক অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় এবং প্রথমে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে, পরে আজকের রায়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে।

তরুণ বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনায় এগিয়ে আসা ৩৯ বছর বয়সী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা তাই আবারো থাই রাজনীতির এক নাটকীয় অধ্যায়ের কেন্দ্রে চলে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত থাইল্যান্ডে নতুন করে উত্তেজনা উস্কে দিতে পারে এবং রাজনীতির মাঠে ফের তীব্র বিভাজন দেখা দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত