বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার্টআপ ভেঞ্চার উদ্যোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার্টআপ ভেঞ্চার উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংক স্টার্টআপ খাতের অর্থায়ন সহজ করার লক্ষ্যে একটি নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই খাতের জন্য আলাদা তহবিলও গঠন করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও অংশগ্রহণ করবে, যা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে।

তিতাসে বিএনপির নতুন কমিটি গঠন, ওসমান সভাপতি সেলিম সম্পাদক

উদ্যোক্তারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সফল বাস্তবায়নের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ইক্যুইটি ও এন্টারপ্রেনার্স ফান্ড (ইইএফ) শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন উদ্যোগটি সফল হলে প্রাথমিক বা ‘সিড’ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সিরিজ এ এবং সিরিজ বি পর্যায়ে তহবিলের ঘাটতি পূরণ হবে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তহবিল পরিচালনায় পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগবান্ধব শর্ত এবং বেসরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। এছাড়া দ্রুত বাস্তবায়ন এবং যোগ্য স্টার্টআপে বিনিয়োগের মানসিকতা থাকা আবশ্যক। বিডি জবসের সিইও এ কে এম ফাহিম মাসরুর বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য, তবে সফলতার জন্য বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।”

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান অ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশের এমডি রাহাত আহমেদ বলেন, “এই উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। তবে বিনিয়োগের শর্ত সহজ এবং পেশাদার তহবিল ব্যবস্থাপক থাকা জরুরি।” স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করলে উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

সরকারি উদ্যোগে গঠিত স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) ইতিমধ্যেই ৩৭টি স্টার্টআপে ১০৮ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৯টি স্টার্টআপে ৯ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালে স্টার্টআপ খাতের জন্য দুই ধরনের তহবিল গঠন করা হয়েছিল। প্রথমটি ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, এবং দ্বিতীয়টি ছিল ৫২টি তফসিলি ব্যাংকের মুনাফার ১ শতাংশের তহবিল। এরপরের তিন বছরে তহবিলে এক হাজার কোটি টাকার বেশি জমা হয়েছে, তবে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা।

স্টার্টআপ খাতের প্রধান উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি হবে। আদনান ইমতিয়াজ, সেবা ডট এক্সওয়াইজেডের সিইও বলেন, “প্রাথমিক বিনিয়োগ এখন শক্তিশালী হলেও সিরিজ এ ও বি পর্যায়ে তহবিলের ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে, তবে সর্বোচ্চ আট কোটি টাকা ঋণের সীমা যথেষ্ট নয়।”

নতুন উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যবস্থাপনা থাকলে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগের সূচনা করতে সহায়তা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত