টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য সংকটে ক্রেতাদের বিশৃঙ্খলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য সংকটে ক্রেতাদের বিশৃঙ্খলা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীতে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি ও বিশৃঙ্খলার ছবি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরবরাহ সীমিত হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষত নারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি, নিয়ম না মানা এবং একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।

টিসিবি বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করছে। গত ১০ আগস্ট থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের বাইরে সাধারণ জনগণের জন্যও কার্যক্রম শুরু হয়। বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মধ্যে এ কার্যক্রম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকায় বিকালের আগেই অধিকাংশ ট্রাকে পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতারা প্রায়ই কিছুই কিনতে পারছেন না।

কারওয়ানবাজারের মেট্রোরেল পয়েন্টে দেখা যায়, প্রায় ২০০ জনের মতো নারী-পুরুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক শৃঙ্খলা থাকলেও নারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও জোরজবরদস্তির চিত্র লক্ষ্য করা যায়। অনেকে অভিযোগ করেছেন, একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য সংগ্রহ করছেন। তেজকুনিপাড়া থেকে আসা ওয়াহিদা জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেও পণ্য পাইনি। অন্যদিকে কাঁঠালবাগান থেকে আসা ফিরোজা বলেন, তিন ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পণ্য কিনতে পেরেছেন, কিন্তু অনেকেই খালি হাতে ফিরে গেছেন।

টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান মেসার্স গ্রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফিরোজ মাহফুজ বলেন, “৫০০ জনের পণ্যের বিপরীতে ক্রেতার ভিড় প্রচুর। পুরুষরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনলেও নারীরা হুড়োহুড়ি করেন এবং একাধিকবার পণ্য নেন, ফলে আমাদের অনেকটাই নিরুপায় থাকতে হয়।” ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়ের সমবায় অফিসার রাজ্জাক উল্লাহ পাটোওয়ারীও স্বীকার করেন, তদারকির সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।

টিসিবির মিডিয়া মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, “কিছু কিছু পয়েন্টে বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। নারীরা একাধিকবার পণ্য কেনার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”

এর আগে সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মে মাসে টিসিবি দেশব্যাপী ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করেছিল। বর্তমানে প্রতিটি ট্রাকে কেজি প্রতি সয়াবিন তেল ১১৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা এবং চিনি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য দাম আগের মতো ১০০, ৬০ ও ৭০ টাকা।

ঢাকা মহানগরীতে ১০ আগস্ট শুরু হওয়া কার্যক্রম চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, মোট ৬০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি হবে। রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিদিনের দৃশ্যপট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত