প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। আল-মাসিরাহ টিভিতে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, এই হামলা গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তিনি জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দখলকৃত নেগেভ অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি, যেখানে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলাকে সফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এতে বহু ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইয়াহিয়া সারি আরও জানিয়েছেন, ইলাতের কাছে রামন বিমানবন্দর এবং নেগেভের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই হামলাগুলো গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ড এবং ইয়েমেনের ভূখণ্ডে ইসরাইলি আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। সারি নিশ্চিত করেছেন, ইয়েমেন ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকবে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। গাজার সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে, গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নয়জন এবং আহতদের মধ্যে ৮৭ জন ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সময় হামলার শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে এবং গাজার সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক প্রতিক্রিয়া ইসরাইল ও গাজার পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য এই ঘটনাগুলো গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।