যুক্তরাজ্যে মেধাবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিলের পরিকল্পনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
যুক্তরাজ্যে মেধাবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিলের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাজ্য বিশ্বের মেধাবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিলের পরিকল্পনা করছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্ক ফোর্স’, যার মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ এবং উদ্ভাবনী মেধাবীদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করা।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দেশটিতে নিয়ে আসা এবং তাদের আবাসন, কাজ ও শিক্ষাজীবন সহজতর করার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক এবং শিল্প-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় যারা সুনাম অর্জন করেছেন, তাঁরা ভিসা ফি থেকে মুক্ত থাকবেন।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা’ এর আবেদন ফি ৭৬৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১,০৩০ মার্কিন ডলারের সমান। স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্যও একই পরিমাণ ফি প্রযোজ্য। তবে নতুন পরিকল্পনার আওতায় এই ফি বাতিল করা হবে এবং প্রার্থীরা কোনো আর্থিক বাধা ছাড়াই আবেদন করতে পারবে।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বিশ্বের প্রতিভাবান মেধাবীদের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে। দেশটি প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্বের লক্ষ্য রাখছে। যুক্তরাজ্য এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, মেধা এবং উদ্ভাবন তাদের জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে এবং যেকোনো আর্থিক বাধা এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে। বিশ্বের সেরা মেধাবী ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে এসে কাজ করলে দেশটি নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারবে। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবনী অর্থনীতি আরও দ্রুত বেগবান হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির মর্যাদা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষ কর্মী ভিসার (এইচ-১বি) ফি এক লাখ ডলার ধার্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই ফি এখন প্রতিটি আবেদনপত্রের সঙ্গে আরোপ করা হচ্ছে, যদিও যারা আগে থেকেই বৈধ ভিসাধারী তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। তুলনায় যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ মেধাবীদের জন্য আরও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক মেধা বাজারে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্যকে বিশ্বমেধার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করবেন। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণাকেন্দ্র ও প্রযুক্তি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ভিসা ফি বাতিল করা হলে মেধাবীরা যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে আরও সহজে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এতে নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

যদিও যুক্তরাজ্যের অর্থবিভাগ এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্ক ফোর্স’ এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং ভিসা ফি বাতিল কার্যকর করা হবে।

বিশ্বের মেধাবী প্রার্থীরা যদি যুক্তরাজ্যে সহজে আসতে পারেন, তবে এটি দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি খাত, শিক্ষাক্ষেত্র এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের স্থান আরও দৃঢ় হবে।

সর্বশেষ, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিকভাবে একটি উদ্ভাবনী এবং শিক্ষিত জনশক্তি সমৃদ্ধ দেশের ভাবমূর্তি গঠন করতে চাচ্ছে। মেধাবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিল করা, বিশ্বের সেরা প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাত দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে এবং যুক্তরাজ্য বিশ্বের উদ্ভাবনী শক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এভাবে, মেধাবীদের জন্য ভিসা ফি বাতিলের পরিকল্পনা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মেধা প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত