লন্ডনের মেয়র সাদিক খান: ট্রাম্প বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান: ট্রাম্প বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫। নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেয়র সাদিক খান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছেন। তিনি ট্রাম্পকে বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী এবং ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই মন্তব্য তিনি করেছেন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির প্রতিক্রিয়ায়, যেখানে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র শহরে শরিয়া আইন কার্যকর করতে চান। বিষয়টি প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে সিএনএনের প্রতিবেদনে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মঙ্গলবার, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প ভাষণ দেন। ভাষণে ট্রাম্প সাদিক খানকে ‘ভয়ংকর মেয়র’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র শহরে শরিয়া আইন চালু করার চেষ্টা করছেন। এই মন্তব্য সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

পরের দিন, বুধবার, সাদিক খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “মানুষ ভাবছে যে এই মুসলিম মেয়রের মধ্যে কী আছে, যিনি একটি উদার, বহু-সাংস্কৃতিক, প্রগতিশীল এবং সফল শহর পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় আমাকে নিয়ে ভাবছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী এবং ইসলামবিদ্বেষী।”

সাদিক খানের এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল এক প্রতিক্রিয়ায় সিএনএনকে বলেন, “মেয়র খান স্পষ্টতই ট্রাম্প ‘ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোমে’ ভুগছেন এবং মেয়র হিসেবে তিনি ভয়াবহ কাজ করেছেন। তার অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি লন্ডনে সহিংস অপরাধকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে হোয়াইট হাউজ কার্যত সাদিক খানের সমালোচনাকে তীব্র আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে, সাদিক খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি সামাজিকমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে লেখেন, “সাদিক খান লন্ডনে শরিয়া আইন আরোপের চেষ্টা করছেন না। তিনি এমন একজন মেয়র যিনি ভিন্নমতের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং আমাদের শহরের পরিবহন, বায়ু, রাস্তাঘাট, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি আমাদের মেয়র হিসেবে গর্বিত।”

সাদিক খানের মন্তব্য ও ট্রাম্পের অভিযোগের মধ্যে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক ভিন্নমত। লন্ডনের মেয়র হিসেবে সাদিক খানের কাজকর্ম বহু-সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়কে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত। তিনি বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার, সমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য এবং সাদিক খানের প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন। ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত অভিবাসন ও ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর কেন্দ্রিত, যেখানে সাদিক খান তার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নৈতিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে, সাদিক খানের লন্ডনকে উদার ও সমন্বিত একটি শহর হিসেবে পরিচালনার কৌশলকে তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।

সাদিক খান আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য লন্ডনের নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করা। এখানে আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং শহরের মানুষের মধ্যে সম্প্রদায়িক সহমর্মিতা, সামাজিক সংহতি এবং উদারনৈতিক মূল্যবোধ স্থাপন করা।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, লন্ডনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তিনি সমতা, প্রগতিশীলতা এবং বহুসাংস্কৃতিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মেয়র খানের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে তার অভ্যন্তরীণ সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৈরি। অন্যদিকে, সাদিক খানের প্রতিক্রিয়া শহরের বাস্তব প্রশাসনিক দিক এবং নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত করছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত যে, লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে সাদিক খানের কাজকর্ম রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিলেও, তার কার্যক্রম মূলত নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং সম্প্রদায়িক সহমর্মিতা উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশিত। তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে শহরের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চান, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

মেয়র খানের কথায় বোঝা যায়, ট্রাম্পের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাদিক খান উল্লেখ করেন যে, তার লক্ষ্য নগর প্রশাসনকে সমন্বিত ও কার্যকরী করা এবং যে কোনো বিতর্কিত বিষয়কে নগরবাসীর সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাধান করা। তিনি বলেন, “আমি চাই লন্ডন একটি নিরাপদ, উদার, এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ সম্পন্ন শহর হিসেবে পরিচিত হোক। আমার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত।”

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সাদিক খানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে বলেন, “মেয়র খান লন্ডনে শরিয়া আইন আরোপের চেষ্টা করছেন না, বরং শহরের নাগরিকদের স্বার্থে, পরিবহন, নিরাপত্তা, এবং সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড শহরের জনগণের জন্য ইতিবাচক এবং ন্যায্য।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্কটি শুধুমাত্র দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত মতবিরোধ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ধারা ও ধর্মীয় ভিন্নমত নিয়ে গঠিত। ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করার মতো হলেও, সাদিক খানের প্রতিক্রিয়া নগর প্রশাসন, প্রগতিশীলতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সার্বিকভাবে, সাদিক খানের মন্তব্যের মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ পেয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিতর্কিত অভিযোগের চাপে নগর প্রশাসন ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। তিনি লন্ডনের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, প্রগতিশীল ও সমন্বিত শহর নিশ্চিত করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত