ট্রাম্পের পশ্চিম তীর নীতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান, শান্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশ ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন না। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করতে দেব না, কোনোভাবেই না। যথেষ্ট হয়েছে, এবার থামতে হবে।” এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছিলেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের কিছু উগ্র ডানপন্থী নেতা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরকে নিজের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে সেখানে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নাকচ করতে চেয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প তাদের এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কয়েকজন আরব নেতা। তারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করলে এই অঞ্চলে সম্ভাব্য স্থিতিশীলতা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প বিষয়টি ভালোভাবে বুঝছেন।

পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, যেখানে ৭ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করেছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। যদিও বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ এই দখলকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবু ইসরায়েল এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাচ্ছে। সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েল এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি জাতিসংঘ থেকে ফেরার পর ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দেবেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা বন্ধ রাখার মাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের দিকে পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলে নেতানিয়াহু এই বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের বিরোধিতা করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের পদক্ষেপ এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, কোনও একতরফা পদক্ষেপকে তিনি সমর্থন করবেন না। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পেতে পারে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত না করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছেন। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগী।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এবং পশ্চিম তীরের ভবিষ্যত নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজে উদ্বেগের সময় এটি একটি আশ্বাস হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এই সময়ে ট্রাম্পের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু ইসরায়েলি সরকার নয়, বরং আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনী জনগণকে নতুন উদ্দীপনা প্রদান করবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি স্থাপন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই স্পষ্ট অবস্থান ইসরায়েলি সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নেতানিয়াহুর মতো প্রধানমন্ত্রীদের জন্য এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাপ ও আন্তর্জাতিক প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

সংক্ষেপে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পশ্চিম তীর সম্পর্কিত মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে একটি নতুন দিক নির্দেশনা প্রদান করেছে, যা ফিলিস্তিনি জনগণ, আরব দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত