প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
এশিয়া কাপ সবসময়ই ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের উত্তাপে ভরে ওঠে। মহাদেশীয় ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দ্বৈরথ। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ আবারও ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, যেখানে নির্ধারিত হবে কে হবে এবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন।
২০১৮ সাল থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এএসিসি) ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে তিনবার মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করে আসছিল। নানা সমীকরণে আগের আসরগুলোতে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এবার সেটি আলোর মুখ দেখেছে। ফাইনালসহ এক আসরে তিনবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ভারত জিতলেও পাকিস্তান লড়াইয়ে নিজেদের ঝাঁঝ ধরে রেখেছে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল বাবর আজমবিহীন দলটি।
ফাইনালের আগে পাকিস্তান শিবিরে মূল আলোচনার বিষয় একাদশ নিয়ে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মিডিয়াম ফাস্ট বোলার হাসান নওয়াজকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বাস্তবতা হলো, সুপার ফোরের কোনো ম্যাচেই তাকে দেখা যায়নি এবং দুবাইয়ের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবে স্পিন সহায়ক। অন্যদিকে, ভারতের ব্যাটিং অর্ডার স্পিনের বিপক্ষে অনেক সময়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই কৌশলগত দিক মাথায় রেখে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, পাকিস্তান একাদশে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা ফাইনালে নামবে আগের অপরিবর্তিত দল নিয়েই।
ফাইনালে পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ হিসেবে আলোচনায় আছেন সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, হুসাইন তালাত, মোহাম্মদ নওয়াজ, সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), শাহীন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ এবং আবরার আহমেদ।
তবে একাদশের বাইরে থেকেও পাকিস্তানের কৌশল নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের জয়ের মূল চাবিকাঠি হবে তাদের বোলিং আক্রমণ। শাহীন আফ্রিদি এবং হারিস রউফ শুরুতে ভারতের টপ অর্ডার ভাঙতে পারলে ম্যাচের গতি পাল্টে দিতে পারবেন। পাশাপাশি স্পিনে আবরার আহমেদ এবং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুবাইয়ের উইকেটে মাঝেমধ্যেই বল টার্ন করে এবং ভারতীয় মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান নির্ভর করবে অভিজ্ঞ ফখর জামান ও তরুণ সাইম আইয়ুবের ওপর। ফারহানের ইনিংসও হতে পারে টপ অর্ডারে গতি নির্ধারণী। তবে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক সালমান আলী আগা। তিনিই নেতৃত্ব দেবেন মিডল অর্ডারে এবং একই সঙ্গে স্পিন আক্রমণকেও শক্তিশালী করবেন। এছাড়া উইকেটের পেছনে আছেন হারিস, যিনি ব্যাট হাতেও ছোটখাটো ক্যামিও খেলতে পারেন।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ের ইতিহাস যদিও কম, তবুও প্রতিটি ম্যাচে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। এবারের ফাইনালেও তাই তাদের চোখ থাকবে প্রতিশোধের দিকে। আগের দুই ম্যাচে হারের ধকল ভুলে এবার তারা চাইবে ইতিহাস বদলাতে।
ভারতীয় শিবিরেও পাকিস্তানের কৌশল নিয়ে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষত শাহীন আফ্রিদির ইনসুইং এবং রউফের গতি সামলানো সহজ নয় কোনো দলের ব্যাটসম্যানদের জন্যই। পাশাপাশি আবরার আহমেদের রহস্যময় স্পিন ভারতের মিডল অর্ডারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ব্যাটিং ধারাবাহিকতার অভাব। প্রথম উইকেট দ্রুত পড়ে গেলে মিডল অর্ডারের ওপর চাপ বেড়ে যায়, আর তখন দলের ইনিংস ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
পাকিস্তান যদি ভারতকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হতে চায়, তবে তাদের শুরুর ১০ ওভারে টপ অর্ডারকে টিকিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করলে ২৮০-৩০০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ গড়তে হবে। যদি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়, তবে ঠাণ্ডা মাথায় রান তাড়া করার সক্ষমতা দেখাতে হবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ফাইনাল মানেই ভিন্ন রকম চাপ। যারা মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে পারবে, তারাই জিতবে। পাকিস্তানের সামনে আজ সুযোগ আছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এশিয়ার সেরা হওয়ার। তাদের সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই নানা আলোচনায় মুখর। কেউ বলছেন শাহীন-রউফের আগুনে বোলিংই হবে জয়ের চাবিকাঠি, কেউ আবার ফখর জামানের ব্যাটিংয়ের ওপর ভরসা করছেন।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের জন্য আজকের ম্যাচ শুধুই একটি ফাইনাল নয়, বরং ভারতীয় আধিপত্য ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনার এক সুবর্ণ সুযোগ। ক্রিকেট দুনিয়া তাকিয়ে আছে এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের দিকে। আজকের রাতে ঠিক হয়ে যাবে, পাকিস্তান কি সত্যিই ভারতকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই ঘটবে দুবাইয়ে।