ঢাকেশ্বরীতে পূজা চেরী: ভক্তদের উচ্ছ্বাস, স্মৃতিচারণ আর ব্যক্তিগত শূন্যতা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৫ বার

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলা চলচ্চিত্রের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পূজা চেরী এ বছর দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন ঢাকায়। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে তিনি সরাসরি উপভোগ করেছেন উৎসবের আবহ, যার মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে তার উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে আলোচিত। ভক্তদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, মণ্ডপের ভিড়ে হঠাৎ পাওয়া উচ্ছ্বাস এবং স্মৃতির পটে ভেসে ওঠা অতীত—সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপূজা পূজা চেরীর কাছে হয়ে উঠেছে ভিন্নতর অভিজ্ঞতার।

অভিনেত্রীর ভাষায়, তার উৎসবের আনন্দ শুরু হয়েছিল অষ্টমী থেকেই। লাল-সাদা শাড়ি পরে যখন তিনি ঢাকেশ্বরীতে যান, তখন চারপাশের মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ভক্তরা কেউ এগিয়ে এসে সেলফি তুলতে চান, আবার কেউ দূর থেকে তাকিয়ে তাকে চেনার চেষ্টা করেন। “অনেকের চোখেমুখে একধরনের সংশয় ছিল, আমি আসলেই কি পূজা চেরী!”—গণমাধ্যমকে এমনই জানান তিনি। এভাবেই ভক্তদের প্রতিক্রিয়া এবারের পূজায় তাকে দিয়েছে ভিন্ন আনন্দ ও অনুভূতি।

ঢাকেশ্বরীতে ঘোরাঘুরির অভিজ্ঞতা নিয়ে পূজা বলেন, “সবার সঙ্গে আনন্দময় সময় কেটেছে। ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছি। সত্যি বলতে, এ বছর পূজা আমার জন্য একেবারেই নতুনভাবে এসেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর দিনও তিনি রাজধানীর আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে এই উৎসবের আনন্দের মাঝেও থেকে গেছে গভীর এক ব্যক্তিগত শূন্যতা—মায়ের অভাব। পূজা চেরী অকপটে বলেন, “মা থাকলে পূজার আনন্দ আরও অন্য রকম হতো। উৎসব মানে তো পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে থাকা, কিন্তু মা না থাকায় এই আনন্দে সবসময় একটা শূন্যতা থেকে যায়।”

পূজার শৈশব কেটেছে খুলনায় জন্ম নেওয়ার পর ঢাকার হাজারীবাগে বেড়ে ওঠার মধ্যে দিয়ে। ছোটবেলার দুর্গাপূজার স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, “ধুলোমাখা দিনগুলো ওই মাটিতেই কেটেছে। নানা রকম পোশাক পরে বের হতাম, উপহার পেতাম, খুব ভালো লাগত। ছোটবেলায় পুরান ঢাকার তাতীবাজার, শাঁখারীবাজারের মন্দিরগুলোতে যেতাম। আত্মীয়স্বজন আসতেন, পথে পথে নানা খাবার খেতাম, শেষে বাসায় এসে মায়ের হাতের রান্নায় তৃপ্তি পেতাম। সেই সময়গুলো এখনো মনে হলে খুব মিস করি।”

এবারের দুর্গাপূজায় পূজা চেরীর উপস্থিতি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে যেন ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ভক্তদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন তিনি। অনেকে মন্তব্য করেছেন, পূজাকে এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, সত্যিই কি ঢাকেশ্বরীর মণ্ডপে পূজা চেরী ছিলেন?

বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত এই নায়িকা সবসময়ই আলোচনায় থাকেন নতুন কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের জন্য। তবে উৎসবের আবহে তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে ভক্তরা পেয়েছেন অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এতটাই যে, যেখানে গেছেন, সেখানেই ভক্তদের ভিড় লেগেছে। পূজা নিজেও ভক্তদের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগকে নিজের জন্য এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে উৎসবের উচ্ছ্বাসের ভিড়ে তার ব্যক্তিগত বেদনার কথাও অনেকে উপলব্ধি করেছেন। মা হারানোর শোক আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। পূজা বলেন, “মা থাকলে আমি হয়তো আরও প্রাণ খুলে উৎসব উপভোগ করতে পারতাম। কিন্তু এখন প্রতিটি উৎসবেই মনে হয়, কিছু একটা যেন অপূর্ণ থেকে গেল।”

অভিনেত্রী হিসেবে পূজা চেরীর যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। শিশু শিল্পী থেকে পূর্ণাঙ্গ নায়িকা হয়ে ওঠার এই পথচলায় তিনি পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো যেমন দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত সৌন্দর্য, সরলতা ও প্রাণবন্ত স্বভাব তাকে ভক্তদের কাছে করেছে আরও প্রিয়। এবারের পূজা উদযাপনও সেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে স্পষ্টভাবে।

ঢাকেশ্বরীতে যখন তিনি ভক্তদের মাঝে ছিলেন, তখন সামাজিক মাধ্যমে সেসব মুহূর্ত ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কেউ লিখেছেন, পূজা চেরীর হাসি পুরো মণ্ডপের পরিবেশকে উজ্জ্বল করেছে। কেউ আবার বলেছেন, তাকে একনজর দেখার জন্যই ঢাকেশ্বরীতে ভিড় করেছেন অনেকেই। এসব প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে যে, বাংলা চলচ্চিত্রের ভক্তরা এখনও তাদের প্রিয় নায়িকাদের বাস্তবে দেখতে কতটা উচ্ছ্বসিত হন।

একজন শিল্পী হিসেবে পূজা চেরী নিজের কাজের বাইরে সবসময়ই সাধারণ মানুষের আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেন। দুর্গাপূজার মতো একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে তার উপস্থিতি শুধু বিনোদনের বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবেও ধরা দিয়েছে। কারণ, পূজা মানেই মিলনমেলা, ভক্তদের সঙ্গে হাসি, আনন্দ আর ভাগাভাগি করে নেওয়া মুহূর্ত।

সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপূজা পূজা চেরীর কাছে ছিল ভিন্ন মাত্রার অভিজ্ঞতা। উৎসবের আনন্দ, ভক্তদের ভালোবাসা, শৈশবের স্মৃতিচারণ এবং মায়ের অভাবের কষ্ট—সব মিলিয়ে এ উৎসব হয়ে উঠেছে তার জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত