প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপির অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। পরিচালনা করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, ১৭ অক্টোবর সারা দেশে সিনেমাটি একযোগে মুক্তি পাবে। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে কয়েকবার মুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমা নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাচ্ছে।
‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ মূলত সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। সিনেমায় পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন পপি, যার বিপরীতে দেখা যাবে আমিন খানকে। পপি ও আমিন খানের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইমন, অনিক রহমান অভি, শিরিন শিলা প্রমুখ। পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী জানান, সিনেমার গল্পের বিষয়বস্তু সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ এবং আধুনিক দর্শকপ্রিয় ফর্ম্যাটে উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০২০ সালে ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’-এর শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকে পপি প্রায় আড়ালে চলে যান। তিনি সংসারী হয়ে যান এবং নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অংশ নেননি। এই প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি দর্শকদের জন্য তার শেষ অভিনয়মূলক উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে সিনেমার প্রতি আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।
পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী আরও বলেন, চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সময় মুক্তির পরিকল্পনা হলেও ছবির মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ার কারণে কয়েকবার স্থগিত করতে হয়েছে। তবে এবার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত তারিখে সিনেমা মুক্তি পাবে।
সিনেমার গল্প সামাজিক ন্যায়ের প্রতিফলন, ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও অন্যান্যায় প্রতিবাদের বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত। পপির চরিত্রে একজন শক্তিশালী পুলিশ কর্মকর্তার গল্প দেখানো হয়েছে, যিনি সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন। এ চরিত্রের মাধ্যমে সিনেমার নির্মাতা সাধারণ দর্শককে সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিকতার বার্তা দিতে চেয়েছেন।
সাদেক সিদ্দিকী বলেন, “পপি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রের বাইরে থাকার পর এই সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় দর্শকদের সামনে আসছেন। তার উপস্থিতি এবং অভিনয় দর্শকপ্রিয় হবে বলে আমরা আশা করছি।” তিনি আরও জানান, সিনেমার দৃশ্যগুলোতে চিত্রনাট্য, অভিনেতা-পাত্রের পারফরম্যান্স এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দর্শককে সম্পূর্ণ বিনোদন প্রদান করবে।
পরিচালক ছাড়াও প্রযোজক ও অন্যান্য চলচ্চিত্রকর্মীরা দর্শকদের জন্য বিভিন্ন প্রচারণা ও মিডিয়া কার্যক্রম চালাতে প্রস্তুত। দেশের বিভিন্ন শহরে সিনেমার প্রচারণা চলবে, যেখানে পপি ও সহঅভিনেতারা অংশ নেবেন। এই প্রচারণার মাধ্যমে সিনেমার মুক্তি ও দর্শক আগ্রহ বাড়ানো হবে।
‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ শুধু বিনোদন দেবে না, বরং সমাজের মূল সমস্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তাও তুলে ধরবে। এই সিনেমার মুক্তি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জন্য নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে এবং দর্শকদের মনে প্রভাব ফেলবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা আশা করছেন।
পপির দীর্ঘদিনের বিরতি এবং সংসারী হওয়ার পর ফের বড় পর্দায় ফেরার এই মুহূর্তকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক দর্শক ও সমালোচকও এই সিনেমার মুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, পরিচালক জানান, সিনেমার প্রযুক্তিগত মান, সেট ডিজাইন, অভিনয় ও সম্পাদনা সবই আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি রাখা হয়েছে। এতে দর্শকরা একটি সমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন।
শেষ পর্যন্ত, ১৭ অক্টোবরের মুক্তি নির্ধারিত হওয়ায় দর্শকরা আশাবাদী, ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ হবে পপির ক্যারিয়ারের শেষ উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, যা তার অনুগামীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ কেবল পপির অভিনয়পথের শেষ অধ্যায় নয়, এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সামাজিক বার্তা ও আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের এক নতুন উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত হবে।