আমি আরও ৯৮টি বাচ্চার মা হতে চাই, পরীমণি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৬ বার
আমি আরও ৯৮টি বাচ্চার মা হতে চাই: খোলামেলা আড্ডায় পরীমণির অকপট স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি তাঁর অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই সবসময় ভক্তদের কাছে বেশি আলোচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নানা সময় পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত অনুভূতি, আবেগ কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি অকপটভাবে প্রকাশ করেছেন ভক্তদের সঙ্গে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সম্প্রতি তিনি হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠান বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে–এর দশম পর্বে, যেখানে প্রায় ১০০ মিনিটের দীর্ঘ আলাপচারিতায় নায়িকা এমন কিছু ব্যক্তিগত কথা বলেছেন যা এর আগে প্রকাশ্যে বলেননি।

রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পডকাস্টে পরীমণি নিজের ক্যারিয়ার, জীবনদর্শন, মাতৃত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি হাস্যরসের মধ্যেও জানিয়েছেন নিজের গভীর অনুভূতির কথা। বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি এখন পুণ্য ও প্রিয়মের মা হলেও চাই আরও ৯৮টি সন্তানের মা হতে। মোট ১০০ বাচ্চার মা হয়ে তাদের লালন–পালন করতে চাই। আল্লাহ যদি আমাকে এতটা সামর্থ্য দেন, তবে আমি তাদের মানুষের মতো মানুষ বানানোর চেষ্টা করব।”

পরীমণি বলেন, মা হওয়ার পর তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে গেছে। আগে যেখানে তিনি হুট করে সিদ্ধান্ত নিতেন, কাজের ব্যাপারে ভেবে চিন্তা না করেই এগিয়ে যেতেন, এখন সেখানে তিনি অনেক বেশি সতর্ক। নিজের ভাষায়, “এখন আমি অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করি, যেটা আগে করতাম না। কারণ আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে এখন আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ জড়িত।” নায়িকার দাবি, তাঁর এই পরিবর্তনের মূল কারণ সন্তান। মা হওয়ার পর থেকে তিনি বুঝতে শিখেছেন দায়িত্বের আসল মানে।

অভিনেত্রী খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন, এতদিন পর্যন্ত জীবনের কোনো পর্যায়ে তিনি আর্থিক সঞ্চয়ের কথা ভাবেননি। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর তাঁর অভ্যাস পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, “আগে আমার কোনো সঞ্চয় ছিল না। যা আয় করতাম তাই খরচ হয়ে যেত। এখন আমি মাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক সঞ্চয় করি, শুধু আমার বাচ্চাদের জন্য। আমার যদি দুই টাকাও উপার্জন হয়, সেটা যেন তারা বড় হয়ে ভোগ করতে পারে।”

এই আলাপচারিতার মধ্যে পরীমণি নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে আরও বলেন, তিনি চান না মা হিসেবে তাঁর কোনো ব্যর্থতা থাকুক। “ব্যক্তি পরীমণি বা নায়িকা পরীমণি অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু মা হিসেবে আমি নিজেকে কখনো ব্যর্থ হতে দেব না।” তিনি মনে করেন, সন্তানদের সঠিকভাবে মানুষ করতে পারাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। আর এজন্যই তিনি আল্লাহর কাছে সবসময় প্রার্থনা করেন, যাতে সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সামর্থ্যশালী হতে পারেন।

পডকাস্টে আলাপচারিতার ফাঁকে পরীমণি তাঁর শিল্পীজীবনের শুরুর দিকের কিছু অভিজ্ঞতার কথাও বলেন। সিনেমায় অভিনয়ের আগে তিনি নাচের স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সেখানে গুণী নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌকে দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, নিজের অক্ষমতার ভয়ে রীতিমতো পালিয়ে যান এবং আর কখনো সেই নাচের স্কুলে ফেরেননি। তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “মৌ আপুকে দেখে মনে হয়েছিল, আমার দ্বারা এটা হবে না। তারপর আর কখনো ফিরে যাইনি।”

শিল্পীজীবনের এই অংশটুকু শেয়ার করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, নায়িকার ব্যক্তিত্বে যেমন আত্মবিশ্বাস আছে, তেমনি রয়েছে স্বীকারোক্তির সাহসও। তিনি নিজের ব্যর্থতা কিংবা ভুলত্রুটি নিয়েও খোলাখুলি বলতে দ্বিধা করেন না। এ কারণেই হয়তো তিনি এতটা আলোচিত ও সমালোচিত, তবে একইসঙ্গে তিনি ভক্তদের কাছে প্রিয় এক নাম।

‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’–এর এই পর্বটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তরা ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠানটির অংশবিশেষ শেয়ার করছেন এবং নায়িকার অকপট স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। কেউ কেউ লিখছেন, “পরীমণির এই সোজাসাপটা কথা তাঁকে আরও আলাদা করে তোলে,” আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “তিনি সবসময় নিজের ভেতরের মানুষটাকে প্রকাশ করেন, এজন্যই তাঁকে ভালো লাগে।”

পরীমণির এই বক্তব্যে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি আছে মাতৃত্বের গভীর আবেগ। ৯৮টি সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথা হয়তো রসিকতা হিসেবেই বলেছেন তিনি, কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে তাঁর অন্তর্নিহিত দায়িত্ববোধ এবং পরিবারকে ঘিরে স্বপ্ন দেখার মানসিকতা।

প্রযোজক জেড আই ফয়সালের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই পডকাস্ট সিরিজ ইতিমধ্যে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে যেসব অতিথি এসেছেন তাঁদের বক্তব্যও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে পরীমণির এ পর্বটিকে বিশেষ বলে মনে করছেন অনেকে, কারণ এখানে তিনি শুধু একজন নায়িকা হিসেবে নয়, বরং একজন মা, একজন নারী ও একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে উন্মোচন করেছেন।

সবশেষে বলা যায়, পরীমণি সবসময় যেভাবে আলোচনার জন্ম দেন, এবারের ঘটনাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করেছে, তিনি কেবল একজন চলচ্চিত্র তারকা নন, বরং একজন অকপট মানুষ, যিনি হাসি–আনন্দ ও মমতায় ভরা জীবনকে ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ভালোবাসেন। ভক্তরা যেমন তাঁর চলচ্চিত্রের নতুন কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাও তাঁদের কাছে সমান আকর্ষণীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত