ব্রাজিলে ফেরার আগে বার্সার শ্রেষ্ঠত্ব রিয়ালের হাতে তুলে দিলেন ভিনি

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪০ বার
এল ক্লাসিকোর আগে ঘটনাবহুল ম্যাচ জিতে শীর্ষে রিয়াল

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লা লিগার মৌসুমে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে উত্তেজনা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে উঠেছে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে। এর মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। জাতীয় দলে ফেরার আগমুহূর্তে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা শুধু দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেনি, বরং লা লিগার শীর্ষস্থানও এনে দিয়েছে রিয়ালকে। শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন এই তরুণ তারকা, আর সেই জয়ই রিয়ালকে আবারও লিগ টেবিলের শীর্ষে তুলে দিয়েছে।

আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বড় হারের পর চাপের মুখে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সমালোচনা হচ্ছিল খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে কৌশল নিয়ে। এমন সময়েই ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল একরকম প্রমাণ করার সুযোগ—দল এখনও শিরোপা দৌড়ে দৃঢ় অবস্থানে আছে। প্রথমার্ধে অবশ্য হতাশ করেছিল মাদ্রিদের দল। সুযোগ তৈরি করলেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয় তারা। এমনকি বিরতিতে যাওয়ার সময় নিজেদের মাঠেই দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়তে হয় খেলোয়াড়দের। সমর্থকদের হতাশ মনোভাব যেন ছড়িয়ে পড়েছিল স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণায়।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার মোড় ঘুরে যায়। বিরতি থেকে ফেরার মাত্র দেড় মিনিট পরই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের বাম দিক থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ কৌশলে ভেতরে ঢুকে শট নেন তিনি। শটটি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কোমেসানার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। গোলরক্ষক আরনাউ তেনাসের কিছুই করার ছিল না। বার্নাব্যুর গ্যালারি মুহূর্তেই উত্তেজনায় ফেটে পড়ে, হতাশা মিলিয়ে যায় উল্লাসে।

রিয়ালের খেলায় প্রাণ ফিরে আসে এই গোলের পর। ভিনিসিয়ুস তখন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ৬৯ মিনিটে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। বক্সে রাফা মারিনের ফাউলে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ভিনি। শান্ত স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নিচু শটে বল পাঠান জালে। রিয়াল তখন ২–০ গোলের স্বস্তিকর লিডে। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী উদযাপনে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি জানেন কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ ও জয়।

তবে ভিয়ারিয়াল লড়াই থেকে সরে দাঁড়ায়নি। তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৭৩ মিনিটে জুড বেলিংহাম এক দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গোল শোধ করে ভিয়ারিয়াল। জর্জিয়ার ফরোয়ার্ড জর্জেস মিকাউতাদজে নিচু শটে থিবো কোর্তোয়ার জাল খুঁজে পান। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২–১ এ। ম্যাচে তখন আবারও উত্তেজনা বাড়ে, স্টেডিয়ামের দর্শকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।

কিন্তু রিয়ালের ভাগ্য সহায় হয় ৮০ মিনিটে। ভিয়ারিয়ালের ফুলব্যাক সান্তিয়াগো মুরিনো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনে নেমে আসে দলটি। সংখ্যাগত সুবিধা পেয়ে রিয়াল আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। মাত্র তিন মিনিট পর ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। ম্যাচ তখন কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের পক্ষে।

তবে খেলার শেষ দিকে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা রিয়াল শিবিরে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দলের নতুন তারকা এমবাপ্পে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এই আঘাত কতটা গুরুতর এবং তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়াল সমর্থকদের আনন্দের মাঝেও সেই উদ্বেগ ছাপ ফেলেছে।

ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রশংসায় ভাসছে ইউরোপিয়ান মিডিয়া। আক্রমণে তার গতি, কৌশল ও আত্মবিশ্বাসই রিয়ালকে জয়ের পথে ফেরায়। লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে এই জয় রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিয়েছে প্রথম স্থান। আট ম্যাচে তাদের সংগ্রহ এখন ২১ পয়েন্ট। দুই পয়েন্ট পিছিয়ে বার্সেলোনা আছে দ্বিতীয় স্থানে। ভিয়ারিয়াল ১৬ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।

ভিনিসিয়ুসের জন্য এই পারফরম্যান্সের বিশেষ তাৎপর্যও রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবার ডাক পেয়েছেন ব্রাজিল জাতীয় দলে। আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। তার আগে ক্লাব জার্সিতে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিনিসিয়ুস এখন শুধু রিয়ালেরই নয়, ব্রাজিল দলেরও বড় ভরসা হয়ে উঠছেন।

অন্যদিকে রিয়াল কোচ জাবি আলনসোও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আতলেতিকোর বিপক্ষে হারের পর সমালোচনার চাপ সামলানো সহজ ছিল না তার জন্য। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয় তাই তাকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। তবে এমবাপ্পের চোট নিয়ে তিনি চিন্তিত। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা দারুণ খেলেছি, ভিনি ছিল অসাধারণ। কিন্তু এমবাপ্পের চোট আমাদের উদ্বেগের কারণ। আশা করি গুরুতর কিছু হয়নি।”

লা লিগার মৌসুম এখনও অনেক বাকি। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কেবল আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, তিনি চাপ সামলাতে জানেন এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম। ব্রাজিলে ফেরার আগে তিনি শুধু রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেননি, বরং বার্সেলোনার শ্রেষ্ঠত্বকেও নিজেদের হাতে নিয়ে গেছেন।

লা লিগার শীর্ষে ওঠা মানে শুধু একটি জয় নয়, বরং এটি একটি শক্ত বার্তা—রিয়াল মাদ্রিদ এখনও স্প্যানিশ ফুটবলের অঘোষিত রাজা, আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন সেই রাজ্যের অন্যতম সিংহাসন রক্ষক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত