ইতিহাস গড়লেন পেপ গার্দিওলা!

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
ইতিহাস গড়লেন পেপ গার্দিওলা!

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করলেন পেপ গার্দিওলা। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে জয় দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ কোচ হয়ে গেলেন প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের দ্রুততম ২৫০ জয়ের মালিক। কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার কিংবা ডেভিড ময়ের্সকেও ছাড়িয়ে এই রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। রবিবার রাতে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ১-০ গোলের জয়টিই তাকে এনে দিয়েছে এই স্বর্ণালী মাইলফলক।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছিল প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোলটি প্রমাণ করেছে তার নির্ভুল ফিনিশিং দক্ষতা এবং মাঠে অদম্য উপস্থিতি। ম্যাচের বাকি সময় দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেললেও আর কোনো গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত হালান্ডের সেই একমাত্র গোলেই তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

তবে ম্যাচের ফলাফল ছাড়াও এই জয় ইতিহাসে জায়গা করে নিল গার্দিওলার কোচিং সাফল্যের নতুন রেকর্ড হিসেবে। মাত্র ৩৪৯ ম্যাচে ২৫০ জয় অর্জন করা প্রিমিয়ার লিগে আগে আর কেউ পারেননি। তুলনা করলে দেখা যায়, কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে এই সংখ্যক জয় পেতে খেলতে হয়েছিল ৪০৪ ম্যাচ। আর্সেন ওয়েঙ্গারের লেগেছিল ৪২৩ ম্যাচ, আর ডেভিড ময়ের্সের লেগেছে অবিশ্বাস্য ৬৪৫ ম্যাচ। এতগুলো কিংবদন্তির ওপরে উঠে গার্দিওলা প্রমাণ করলেন তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কোচ।

মৌসুমের শুরুটা অবশ্য সিটির জন্য সুখকর ছিল না। টানা টটেনহাম হটস্পার ও ব্রাইটনের কাছে হারের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গার্দিওলা। সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকে তখন বলেছিলেন, হয়তো এ মৌসুমে সিটি আর আগের মতো আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। কিন্তু গার্দিওলার তীক্ষ্ণ কৌশলগত দৃষ্টি এবং খেলোয়াড়দের ফর্মে ফেরা দলকে আবারো জয়ের ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। সর্বশেষ চার লিগ ম্যাচে অপরাজিত থেকে এবং সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচ ধরে হারহীন থেকে সিটি প্রমাণ করেছে, তারা আবার শিরোপার দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট।

এই দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম আর্লিং হালান্ড। গোলমেশিন খ্যাত এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এ মৌসুমেও দারুণ ছন্দে আছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন তিনি। তার দুর্দান্ত ফর্ম শুধু সিটির জন্যই নয়, সমগ্র ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, হ্যারি কেন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে অনেক সময় চাপ অনুভব করেন। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার প্রতিযোগিতা তাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। তবে মাঠে তার পারফরম্যান্স দেখলে বোঝা যায়, চাপকে তিনি অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করতে জানেন।

গার্দিওলার এ রেকর্ড কেবল সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি কেবল জয় পায়নি, বরং খেলার ধরণেও এনেছে এক অনন্য বিপ্লব। বল দখলভিত্তিক খেলা, উচ্চ প্রেসিং, আক্রমণাত্মক কৌশল এবং বহুমুখী পজিশনাল প্লের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন আধুনিক ফুটবলে তার চিন্তাধারা কতটা কার্যকর। শুধু ইংলিশ ফুটবল নয়, গোটা ইউরোপেই গার্দিওলার কৌশল এখন অনুকরণের বিষয়। এর আগে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গেও তিনি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। তবে প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসরে এত দ্রুত সাফল্য অর্জন তাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, ফার্গুসন বা ওয়েঙ্গারের যুগে প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিন্ন ছিল। তখন ফুটবলে এত অর্থনৈতিক শক্তি, এত আন্তর্জাতিক তারকা একসাথে খেলতো না। এখনকার সময়ে প্রতিটি ম্যাচেই ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকে। এমন পরিবেশে গার্দিওলার ৩৪৯ ম্যাচে ২৫০ জয় পাওয়া নিঃসন্দেহে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্য।

এদিকে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের আশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলটি আবারও লিগ শিরোপা জিততে পারবে। গত মৌসুমে আর্সেনালের বিপক্ষে টানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল। এবারের মৌসুমে লিভারপুল, আর্সেনাল, টটেনহাম ও চেলসির মতো দলগুলোও ভালো ফর্মে থাকায় শিরোপার লড়াই আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গার্দিওলার অধীনে সিটি বারবার প্রমাণ করেছে, প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, তারা জয়ের পথ খুঁজে নিতে জানে।

গার্দিওলার এই রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। সিটি সমর্থকরা তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “পেপ কেবল একজন কোচ নন, তিনি একজন ফুটবল দার্শনিক।” অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকেরাও স্বীকার করছেন, সংখ্যার বিচারে তিনি এখন ইতিহাসের সেরা ম্যানেজারদের কাতারে।

সবশেষে বলা যায়, ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে গার্দিওলার ২৫০তম জয় শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, বরং আধুনিক ফুটবলে তার প্রভাব ও অবদানের সাক্ষ্য। তার দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল এবং সফলতা বিশ্ব ফুটবলে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। আর আর্লিং হালান্ডের মতো গোলমেশিন যখন সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন সিটি সমর্থকরা আরও বড় স্বপ্ন দেখতে বাধ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত