নোবেল পুরস্কার ঘোষণা আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯১ বার
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার দিন: বিশ্বজুড়ে নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতীক্ষিত সম্মাননা নোবেল পুরস্কারের ঘোষণার দিন এসে গেছে। আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আলবার্ট আইনস্টাইন, রাবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাদার তেরেসা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের তালিকায় এবার যুক্ত হবে নতুন নোবেলজয়ীদের নাম। চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এই ছয়টি ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখা গবেষক, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিত্বরা পুরস্কৃত হবেন।

এ বছরও ঘোষণার ধারা শুরু হচ্ছে চিকিৎসাশাস্ত্র দিয়ে। সুইডেনের স্টকহোমের ঐতিহ্যবাহী কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে প্রথমেই প্রকাশিত হবে চিকিৎসায় নোবেল জয়ীদের নাম। এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যা, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তির নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। সবশেষে ১৩ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার।

নোবেল পুরস্কারের উদ্যোক্তা সুইডিশ বিজ্ঞানী ও শিল্পোদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুযায়ী প্রতি বছর তার মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীরা পান এক কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার), ১৮ ক্যারেটের সোনার একটি পদক এবং একটি সম্মাননাপত্র। তবে এই অর্থমূল্যের বাইরে নোবেল বিজয়ীরা পান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি ও অমর মর্যাদা, যা তাদের নামকে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে খোদাই করে রাখে।

বিএনপির কাছে শতাধিক আসন নিয়ে সমমনা দলগুলোর দর-কষাকষি

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার প্রক্রিয়া সবসময়ই রহস্যময় এবং কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। সাধারণত মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয় না এবং বিচারকদের deliberation বা সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াও ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন থাকে। তবে যেসব মনোনয়নদাতা চান, তারা তাদের প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারেন। এই রহস্যময়তা পুরস্কারটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।

ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল তার জীবনের শেষ সময়ে অর্জিত বিপুল সম্পদ মানবকল্যাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই ১৯০১ সালে প্রথমবার নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য এবং শান্তি শাখায়। পরে ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার’ চালু করে, যা এখন নোবেল ঐতিহ্যেরই একটি অংশ।

বিভিন্ন শাখার পুরস্কার প্রদান করে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান। রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস প্রদান করে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অর্থনীতির পুরস্কার, সুইডিশ একাডেমি প্রদান করে সাহিত্য পুরস্কার, চিকিৎসাশাস্ত্রে পুরস্কার প্রদান করে কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, আর শান্তির নোবেল প্রদান করে নরওয়ের সংসদ। এই বিভাজনও আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারিত হয়েছিল।

প্রতিবারের মতো এবারও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ব রাজনীতি। গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য স্বাক্ষরিত ‘আবরাহাম অ্যাকোর্ডস’ চুক্তির প্রভাব এখনো আলোচনায় রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকার জন্য মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেলের জন্য একাধিকবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বরেও মার্কিন এক রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন তাকে মনোনীত করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নরওয়ের নোবেল কমিটিই নেবে।

নোবেল পুরস্কারের প্রতিটি শাখায় বিজয়ীরা বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে যুগান্তকারী কোনো আবিষ্কার, পদার্থবিদ্যায় মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচন, রসায়নে মানবকল্যাণে বৈপ্লবিক গবেষণা, সাহিত্যে সমাজ ও মানবজীবনের গভীরতর প্রকাশ, অর্থনীতিতে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে অবদান অথবা শান্তিতে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা—এসবের মধ্য দিয়েই নতুন নোবেলজয়ীরা মানবসভ্যতার ইতিহাসে নিজেদের নাম অমর করে রাখেন।

বিশ্ব যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধবিগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও মানবতার চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা নিঃসন্দেহে নতুন দিশা ও অনুপ্রেরণা এনে দেবে। সুইডেন ও নরওয়েতে অনুষ্ঠিত ঘোষণাগুলো তাই শুধু পুরস্কার নয়, বরং মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই পুরস্কার প্রত্যেক বছর প্রমাণ করে যে মানবতার কল্যাণে জ্ঞান, গবেষণা, সাহিত্য, অর্থনীতি কিংবা শান্তির প্রয়াস কখনো বৃথা যায় না। বিশ্ব যত অশান্তই হোক না কেন, নোবেল পুরস্কার মনে করিয়ে দেয়—মেধা, মননশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের জয় সবসময় অনিবার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত