ট্রাকের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, এক নিহত, তিন আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
ট্রাকের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, এক নিহত, তিন আহত

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকাগামী ট্রাকের ধাক্কায় এক যুবক নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই ইউনিয়নের নাসির গ্লাস এলাকায় ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ (২০) নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার কামারদাহ গ্রামের আলম মোল্লার ছেলে। আহতদের নাম ও পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ মারা যান। আহতদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রয়েছেন এবং তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

গোড়াই হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, “ঢাকাগামী লেনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পিছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে চারজন গুরুতর আহত হন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।” তিনি আরও জানান, “ঘটনার পর ট্রাকটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”

দৃশ্যত, ঘটনাস্থলটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা। মহাসড়কে যান চলাচল প্রতিনিয়ত হয়, এবং এখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যথাযথ সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। স্থানীয়দের বক্তব্য, বেশ কয়েকবার এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় এক পথচারী বলেন, “রাতের বেলায় গাড়ির আলো ঠিকমত না থাকায় এবং ট্রাফিক সংকেতের অভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ ধরনের জায়গায় পুলিশ বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।” অন্য এক গাড়ি চালক জানান, “আমরা প্রায়ই এখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়ি, যা কখনো বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।”

অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী পরিবহনের উদ্দেশ্যে মির্জাপুরে দাঁড়িয়ে ছিল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে রোগী বা জরুরি চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত কাজ চলছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই অ্যাম্বুলেন্সটি চিকিৎসা সেবা দিতে দাঁড়িয়ে ছিল।

এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আব্দুল্লাহর বাবা আলম মোল্লা বলেন, “আমাদের ছেলের জীবনের মুল্য অপরূপ ছিল। অথচ এক মুহূর্তের লापরवाही আর যানবাহনের দুর্ঘটনায় তার জীবন শেষ হয়ে গেল। আমরা চাই হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হোক।” তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের একটি প্রধান ও ব্যস্ত সড়ক, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে এখানে দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ও অন্ধকারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেশি। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক চিহ্ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালক ও সহকারীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও, নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কাজ করছে।

এই দুর্ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের আচরণের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পথ ও যানজট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নয়, গাড়ি চালকদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত নজরদারি চালানো প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানিকর দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

এদিকে স্থানীয়রা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়কে ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ঘটনায় গোড়াই হাইওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত