গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কাতার ও তুরস্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কাতার ও তুরস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন করতে অসাধারণভাবে সহায়তা করেছে কাতার ও তুরস্ক। তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। রবিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরাইলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে কাতার ও তুরস্কের নেতৃত্বে নেওয়া ইতিবাচক ভূমিকার কারণে। কাতারের আমির একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর দেশ ভৌগোলিকভাবে এক অনন্য স্থানে অবস্থিত—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে তারা এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করছে। এটি তাদের জন্য কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও তারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “প্রথম মেয়াদে আমি কাতার সম্পর্কে তেমন জানতাম না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের অবস্থান ও ভূমিকায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। তারা শুধু একটি দেশের মতো নয়, বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে।”

তিনি কাতারি জনগণ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “কাতারি জনগণ সাহসী, তাদের নেতৃত্ব দৃঢ়। গাজার চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের অবশ্যই কিছু কৃতিত্ব প্রাপ্য।”

একইসঙ্গে তুরস্কের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, “তুরস্কও দারুণভাবে সহায়তা করেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একজন সম্মানিত নেতা। তাঁর নেতৃত্বে তুরস্ক আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির সামরিক শক্তি এবং রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এই চুক্তিকে সফল করেছে।”

এছাড়া ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও জর্দানের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমিরাত, সৌদি বাদশাহ, ইন্দোনেশিয়া ও জর্দানের রাজা—সবাই নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো গাজায় স্থায়ী শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে, তিনি কখনো গাজা সফরে যাবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমি অবশ্যই যেতে চাই। গাজায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারলে গর্বিত বোধ করব। যদিও এখনো যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অঞ্চলটি সম্পর্কে আমি গভীরভাবে জানি এবং সেখানে পা রাখার অপেক্ষায় আছি।”

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এক ‘অলৌকিক পরিবর্তনের সূচনা’ করবে। তাঁর মতে, “এটি আগামী কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম এক বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সবকিছু সময়মতোই করতে হবে, তাড়াহুড়ো করে নয়।”

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এখনো যুদ্ধ শেষের কোনো ইঙ্গিত না দিলেও, ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বলেন, “যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই যুদ্ধবিরতি টিকবে। মানুষ এখন যুদ্ধ থেকে ক্লান্ত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে সবাই আগ্রহী।”

গাজার পুনর্গঠনের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, “পুরো অঞ্চলটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিগগিরই সেখানে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট—সবকিছুই পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। এটি হবে নতুন এক সূচনা।”

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অস্ত্র রাখার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সাময়িকভাবে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা শান্তি রক্ষা ও উপত্যকার নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।”

নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “গাজা যুদ্ধবিরতি আমার অষ্টম সফল যুদ্ধ-সমাপ্তি প্রচেষ্টা। নোবেল পুরস্কার কমিটি চাইলে এটি বিবেচনা করতে পারে। তবে আমি পুরস্কারের জন্য নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এই কাজ করছি।”

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গাজা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ তাঁর পুনর্নির্বাচন প্রচারণার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব পুনরুদ্ধারের এক কৌশল। তবে এ চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অন্তত সাময়িক শান্তি ফিরবে বলে অনেকেই আশাবাদী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত