জাতিসংঘের রিপোর্ট: গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি অবকাঠামো ধ্বংস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার
জাতিসংঘের রিপোর্ট: গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি অবকাঠামো ধ্বংস

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

গাজা উপত্যকার বৃহত্তর অংশে, বিশেষ করে গাজা সিটিতে, মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস ও ক্ষতি ঘটেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং গাজা শহরের ৯২ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া হিসেবে চিত্রিত করছে।

ইউএনডিপির এক মুখপাত্র জেনেভা থেকে সাংবাদিকদের বলেন, “গাজার বর্তমান ধ্বংসস্তূপ বিধ্বংসী। এখানে বসবাসযোগ্য পরিবেশ পুনঃস্থাপন করতে একটি বিশাল প্রচেষ্টা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৫৫ মিলিয়ন টন বা সাড়ে পাঁচ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে এখানকার অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক এবং অন্যান্য বিপজ্জনক উপাদান কাজকে ব্যাহত করছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিয়মিত মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে, যা শনাক্ত ও সমাহিত করা জরুরি। এই পরিস্থিতি ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং পুনর্গঠনের কাজকে জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।

ইউএনডিপি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি—বিশেষত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক—গাজার পুনর্গঠন ব্যয় ও চাহিদার মূল্যায়ন করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গাজাকে আবার বাসযোগ্য ও কার্যকর জীবনধারার উপযোগী করতে কমপক্ষে ৭০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫২.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) প্রয়োজন। এই অর্থ ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, বেসামরিক অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন, এবং স্কুল ও হাসপাতাল পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হবে।

উল্লেখ্য, গাজায় সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুনর্গঠন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধ্বংসের মাত্রা শুধুমাত্র গাজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নয়, মানবিক ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

ইউএনডিপির তথ্যানুযায়ী, পুনর্গঠন শুরু করা হলেও গাজায় বসবাসকারী মানুষদের জন্য স্বাভাবিক জীবনধারা ফেরানো এখনই বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, হাসপাতাল এবং চিকিৎসা কেন্দ্র কার্যকরভাবে কাজ করছে না, এবং পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত। এছাড়া বিশাল ধ্বংসস্তূপ এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলছে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ধ্বংসের মাত্রাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, গাজার পুনর্গঠনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রাধান্য দেওয়া উচিত, যাতে মানুষ দ্রুত নিরাপদ বাসযোগ্য পরিবেশে ফিরে যেতে পারে। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে, তাদের কর্মসংস্থান এবং পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজার পুনর্গঠন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা পুনঃস্থাপন, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতকে পুনর্গঠন করাও অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে স্থানীয় জনগণ ধ্বংসযজ্ঞের পরও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে পারবে।

ইউএনডিপি জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠন ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া কার্যকরভাবে অগ্রগতি সম্ভব নয়। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, তহবিল এবং কর্মী সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

অন্যদিকে, গাজার মানুষের ওপর চলমান মানবিক চ্যালেঞ্জও ক্রমবর্ধমান। খাদ্য নিরাপত্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার সুযোগের অভাব মানুষকে অতি দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকর পুনর্গঠন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে এক স্পষ্ট বার্তা এসেছে—গাজার পুনর্গঠন এখন অপ্রত্যাহার্য। ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পুনঃস্থাপন, এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তৎপর হতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে, ধ্বংসস্তূপ ও মানবিক সংকট আরও গভীর আকার নেবে।

এই রিপোর্টে গাজা পুনর্গঠনের চাহিদা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, এবং মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের গুরুত্বকে বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ যাতে গাজার মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত