দরিদ্র কন্যা অদিতি ১২ বছর বয়সে নাসায় যাচ্ছে 

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৫ বার
দরিদ্র কন্যা অদিতি ১২ বছর বয়সে নাসায় যাচ্ছে 

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতীয় স্কুলছাত্রী ,দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া, বাবা দিনমজুর এবং পরিবারে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নেই, তবুও ১২ বছর বয়সী অদিতি পার্থ নাসার বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় সফরের সুযোগ পেয়েছেন। পুণের নিগুদাঘর জেলা পরিষদ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই ছাত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টায় মামাবাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যায় এবং বিকেল ৫টায় স্কুল শেষ হলে একই পথ ফিরে আসে। তার পরিবারে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নেই, এমনকি ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতাও নেই।

এই বছর পুণ জেলা পরিষদ আয়োজন করেছিল নাসা সফরের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আয়োজন। ‘ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজ়িক্স (আইইউসিএএ)’-র সহযোগিতায় তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষা অগাস্টে শেষ হয়। প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণ করে ১৩,৬৭১ জন পড়ুয়া। প্রতিটি ব্লক থেকে শীর্ষ ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় পর্যায়ের অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়। অদিতির স্কুলে কোনো কম্পিউটার না থাকায় প্রধান শিক্ষক অশোক বন্দল তার ব্যক্তিগত ল্যাপটপে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সফল হওয়ায় অদিতি ইন্টারভিউয়ে ডাক পান। জীববিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ভূগোল বিষয়ে প্রশ্নের মধ্যে তিনি সাফল্য অর্জন করেন। মোট ২৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয় নাসা সফরের জন্য, যার মধ্যে অদিতির নামও রয়েছে।

অদিতি তার সাফল্যে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি জানান, “যখন স্যর আমার মামিকে খবর দিলেন, তখন সে প্রচণ্ড খুশি হয়ে গিয়েছিল। আমার মা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে। আমি সকাল ৭টায় তাকে ফোন করে জানাই যে আমেরিকা যাচ্ছি। এরপর থেকে মা দিনে ১৫ বার ফোন করছে।”

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বক্তৃতা ও নাচেও দক্ষ অদিতি। তার মামি মঙ্গলা কাঁক বলেন, “বিমানে চড়া তো দূরের কথা, আমরা তা কখনো চোখেও দেখিনি। অদিতি যে আমেরিকা যাচ্ছে, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। গ্রামে পড়াশোনা না করলে কুলি হওয়া ছাড়া উপায় নেই, তাই আমরা সন্তানদের শিক্ষার দিকে জোর দিই।”

নভেম্বরে অদিতি আমেরিকা যাওয়ার কথা রয়েছে। জেলা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে ২৫ জন শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট এবং গ্রুপ ভিসার ব্যবস্থার দিকে নজর দিয়েছে। সফরে জেলা পরিষদের তিন জন শিক্ষক, আইইউসিএএ-র দু’জন কর্মী এবং এক জন মেডিক্যাল অফিসার সঙ্গে থাকবেন। এই প্রকল্পের বাজেট প্রায় ২.২ কোটি টাকা, যা জেলা পরিষদ এবং জেলা পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটি থেকে অনুমোদিত হয়েছে।

অদিতির এই অভাবনীয় সাফল্য স্থানীয় স্কুল, পরিবার এবং শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত