প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দুই বছরের এক বর্বর সামরিক আগ্রাসনের পর গাজা পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী এই সময়ে গাজায় চলমান হামলায় অন্তত ৬৭ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এবং ৮০ শতাংশেরও বেশি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, গাজার পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই বছরের আগ্রাসনের ফলে গাজায় প্রায় ৫৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ সৃষ্টির পরিমাণ হয়েছে, যা প্রায় ১৩ গুণ পিরামিডের সমান। তিনি আরও জানান, এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।
ইউএনডিপির জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, “ইসরাইলের হামলার ফলে গাজা ভেঙে পড়েছে। আমরা গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের দেশসমূহ এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছি। তারা এই পুনর্গঠনে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী।”
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজার উপকূলীয় অঞ্চলে বহু ফিলিস্তিনি তাদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বছর ধরে চলা বোমা হামলায় গাজার বহু হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ নিরাপদ এবং পুনর্গঠিত জীবন যাপন করার জন্য সহায়তার প্রতি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজার পুনর্গঠন শুধু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গাজার পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।