মধ্যরাতে নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা, লুট হয়েছে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
মধ্যরাতে নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা, লুট হয়েছে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভার তালোড়া বাজার এলাকায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় বিমলা পোদ্দার (৬৭) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ডাকাতরা বাড়ি থেকে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা নগদ অর্থ এবং তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। নিহত বিমলা পোদ্দার স্থানীয় মৃত রাধেশ শ্যাম পোদ্দারের কন্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রায় ৫ থেকে ৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল টিনের চাল কেটে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে থাকা দুই ভাই ও তিন বোনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করে। এরপর ঘরের আলমারি, বাক্স ও আসবাবপত্র উল্টে ফেলে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে বের করে নেয়। ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয় এবং পালানোর আগে বিমলা পোদ্দারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ভোররাত আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে ডাকাত দলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রতিবেশীরা সকালে চিৎকার শুনে বাড়িতে গিয়ে বিমলা পোদ্দারের নিথর দেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিমলা পোদ্দারের পরিবারটি স্থানীয়ভাবে স্বনামধন্য ও শান্তিপ্রিয়। পরিবারের পাঁচ ভাইবোন একসঙ্গে বসবাস করতেন এবং তারা চাল ও ভুসির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের কারও বিবাহ হয়নি এবং দুই ভাইবোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বয়সজনিত কারণে সবাইই প্রায় অবসর জীবন যাপন করছিলেন। ফলে তাদের বাড়িতে এভাবে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘর থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুট করা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে তালোড়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে, তবে এমন ভয়াবহ ডাকাতি বহু বছর পর ঘটল। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত বিমলা পোদ্দারের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সবাই দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তারা আশাবাদী, দ্রুতই ডাকাত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত