শনিবার সিলেটের বহু এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯১ বার
শনিবার সিলেটের বহু এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

সিলেটের নগরজীবনে আগামীকাল শনিবার বড় ধরনের ভোগান্তি নেমে আসতে পারে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে, শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৩/১১ কেভি শেখঘাট উপকেন্দ্রের বিকল্প সোর্স লাইন নির্মাণের কাজ চলায় এ সাময়িক অসুবিধা দেখা দেবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা ধরে সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড়, পুলিশ লাইন, ভাতালিয়া, পশ্চিম শেখঘাট, নবীন আ/এ, ভাঙ্গাটিকর, কুয়ারপাড়, ইঙ্গুলাল রোড, লামাবাজার, বিলপাড়, শেখঘাট সরকারি কলোনি, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, ওসমানী মেডিকেল রোড, কাজল শাহ, মুন্সিপাড়া, দরগা মহল্লা, শাপলার গলি, মধুশহীদ, রিকাবীবাজার, উদ্যম আবাসিক এলাকা, নয়াপাড়া, দক্ষিণ কাজলশাহ, ইসকন মন্দির, সৌরভ আ/এ, নবাব রোড, বর্ণমালা পয়েন্ট, মনিপুরি বস্তি, সাগরদিঘীরপাড়, সুরমা আবাসিক এলাকা, প্রেসক্লাব, মীরের ময়দান, কেওয়াপাড়া, ডিজিএফআই অফিস, এসএমপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা উপকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি এমসি কলেজ ফিডারের শাহমীর মসজিদ এলাকা ও আব্দুল মতিন ট্রেডার্স সংলগ্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ থাকবে না। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজটি সিলেট নগরীর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি। শেখঘাট উপকেন্দ্রের বিকল্প সোর্স লাইন তৈরি হলে ভবিষ্যতে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা বা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। তারা মনে করছেন, সাময়িক এই ভোগান্তির বিনিময়ে সিলেটবাসী ভবিষ্যতে আরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, উন্নয়নমূলক এই সময়টিতে সহযোগিতা করার জন্য। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি সকালবেলার সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে মানুষকে কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হবে, তবে এই কাজ সম্পন্ন হলে সিলেট শহরের বড় অংশে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা হবে।”

নগরবাসীর অনেকে এই ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, শনিবার সকালে বিদ্যুৎ না থাকলে নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে সিলেটের কিছু হাসপাতাল ও দোকানপাটে বিকল্প জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে যেমন লামাবাজার, রিকাবীবাজার, ওসমানী মেডিকেল রোড বা কাজলশাহ অঞ্চলে সকালে বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তা প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, “সিলেট বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প”-এর মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন, নতুন ফিডার সংযোজন, পুরনো তার পরিবর্তন এবং সঞ্চালন লাইন উন্নয়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে শেখঘাট ও আম্বরখানা উপকেন্দ্রকে আরও সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে পুরো নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

পিডিবি জানিয়েছে, এসব কাজ শেষ হলে নগরীর লোড ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে এবং অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমে আসবে। বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সিলেট শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও শিল্প-কারখানার চাহিদা মেটাতে আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা স্থাপন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে সিলেটবাসী যদিও সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকবেন, তবু অধিকাংশ নাগরিকই মনে করছেন—এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নগরজীবনে স্বস্তি বয়ে আনবে।

২৫ দলের নেতারা স্বাক্ষর করলেন জুলাই জাতীয় সনদ

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি কাজ শেষ হয়, তাহলে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। তারা সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সিলেটের মানুষ তাই শনিবার সকালে যখন সূর্যের আলোয় শহর জেগে উঠবে, তখন হয়তো অনেক ঘরে থাকবে সাময়িক অন্ধকার। কিন্তু সেই অন্ধকারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে একটি আশার আলো—ভবিষ্যতের নিরবচ্ছিন্ন, স্থিতিশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত