ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ড্রোন ও সিসিটিভি থাকবে না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রস্তুতিতে নামছে। আগামী ২০ অক্টোবর নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রাক-প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় ইসি আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে কী ধরনের সহায়তা আশা করে, তা জানাবে।

ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ডিজিএফআই, এনএসআই, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), র‌্যাব, বিজিবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, আনসার ও ভিডিপির প্রধানদের সভার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, সভার কার্যপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচনি নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরবর্তী প্রস্তুতির তুলনামূলক বিশ্লেষণও রাখা হয়েছে কার্যপত্রে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কমিশন এবার ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। একইভাবে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনাও বাদ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য।

সভায় আলোচনার জন্য প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো, ভোটের দিন দ্রুত সমন্বয় ব্যবস্থাপনা, এবং নির্বাচনের পরবর্তী মূল্যায়ন। পাশাপাশি, প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে যেকোনো সংকট মোকাবেলার বিষয়েও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

গত নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। এবারও একই সংখ্যক সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন, কারণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি।

কার্যপত্রে তফসিল ঘোষণার আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেবেন কমিশনের নীতিনির্ধারকরা।

গত ১৫ বছরে দেশে একাধিকবার ভোটারবিহীন নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল পুনরুদ্ধার এবং তাদের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ কারণেই তফসিল ঘোষণার আগেই কমিশন এই প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আইনশৃঙ্খলা সভার মাধ্যমে আগাম বার্তা দিতে চায় যে, তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত