করিনার সঙ্গে তুলনায় কে এই বীরা বেদী?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৮ বার
করিনার সঙ্গে তুলনায় কে এই বীরা বেদী?

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি যে নামটি হঠাৎ করেই সাড়া ফেলে দিয়েছে, তিনি আর কেউ নন—রজত বেদীর কন্যা বীরা বেদী। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন এই তরুণী। এক লালগালিচা ইভেন্টে পিতার সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন তিনি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক, তুলনা, প্রশংসা এবং এক অজানা কৌতূহলের ঝড়। নেটিজেনদের চোখে তার মুখের সঙ্গে অবিশ্বাস্য মিল পাওয়া গেছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী করিনা কাপুরের সঙ্গে। কেউ কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে তার মুখাবয়বের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া রায়ের মধ্যেও।

‘ব্যাডস অব বলিউড’ নামের এক ওয়েব সিরিজের প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়েছিলেন রজত বেদী ও তার মেয়ে বীরা। সিনেমা বা মিডিয়া জগতে এখনো পা না রেখেই আলোচনায় উঠে এসেছেন এই তরুণী। ইভেন্টের ফটো ও ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই বীরাকে ঘিরে শুরু হয় বিপুল আলোড়ন। কেউ তাকে বলছেন ‘কারিনার ডপেলগ্যাংগার’, কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, “এ যেন ২০০০ সালের কারিনা আবার ফিরে এসেছে।”

একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “বীরার চোখের দৃষ্টি আর হাসিটা পুরোপুরি করিনার মতো।” অন্য এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “যদি বলিউড রিমেক করতে চায়, তাহলে ছোটবেলার করিনার চরিত্রে বীরাকে নেওয়া উচিত।” এমনকি কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন—“এই মেয়ে চাইলে ১০টা কারিনা কাপুরের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে।”

এই তুলনা ও উচ্ছ্বাসের ভিড়ে অবশ্য বীরার বাবা রজত বেদী বেশ সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমরা আপ্লুত। তবে সবাইকে অনুরোধ করব, আমার মেয়ের সঙ্গে এমন প্রতিষ্ঠিত তারকাদের তুলনা টানা থেকে বিরত থাকুন। ও এখনো তরুণী, পড়াশোনা করছে। ওর নিজস্ব পথ ও স্বপ্ন আছে।” তিনি যোগ করেন, “হঠাৎ করে এত বেশি মনোযোগ পেয়ে ও একটু ভয়ও পেয়েছে। বীরা আসলে লাজুক মেয়ে, মিডিয়ার সামনে আসার অভ্যেস এখনো হয়নি।”

রজত বেদী বলিউডে একসময় জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। ‘কোই মিল গয়া’, ‘জনি গদ্দার’, ‘ইনসান’ কিংবা ‘2001: দ্য আননোন’—এই ছবিগুলোতে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে এখন পরিবার নিয়ে কানাডায় বসবাস করছেন। প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৪ সালে, তিনি বলিউড থেকে কিছুটা দূরে সরে যান এবং ব্যবসা ও প্রযোজনার কাজে মনোযোগী হন। বীরা সেই সময়েই জন্ম নেয়, বর্তমানে তার বয়স ১৮।

বীরার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এখনো খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। জানা গেছে, তিনি কানাডার একটি কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং চলচ্চিত্র বা মডেলিং জগতে পা রাখেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অ্যাকাউন্টগুলো ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) করে রাখা হয়েছে, ফলে ভক্তরা খুব একটা ঝলক দেখতে পাচ্ছেন না। এর মধ্যেও কিছু পুরোনো ছবি ও সংক্ষিপ্ত ভিডিও অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা থেকেই তুলনার সূত্রপাত।

সেই ছবিগুলোতে দেখা যায়, দুধসাদা গায়ের রং, বাদামি আভাযুক্ত চুল, হালকা নীল চোখ—সব মিলিয়ে তার মুখাবয়বে করিনা কাপুরের তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে ওঠে। এক নজরে দেখলে মনে হতে পারে, যেন কোনো পুরোনো বলিউড সিনেমার পোস্টার থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। আর সেখানেই সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও আগ্রহের মিশেল—‘এই মেয়েটি কে?’

একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বলেন, “মানুষের কৌতূহল এক অদ্ভুত জিনিস। এক মুহূর্তে যাকে কেউ চেনে না, পরের মুহূর্তেই তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় আলোচনার ঝড়। বীরা বেদীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বলিউডে যেহেতু তার পিতার পরিচিতি আছে, তাই জনসাধারণের নজর আরও বেশি পড়েছে তার ওপর।”

তবে বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, এই ধরনের তুলনা নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য একধরনের চাপও তৈরি করে। একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “যখন কাউকে শুরুতেই বড় তারকার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন প্রত্যাশার বোঝা বেড়ে যায়। অনেক সময় সেটি ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।”

বীরার ঘনিষ্ঠ এক পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বীরা এখনো নিশ্চিত নন তিনি চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়বেন কি না। পড়াশোনাই তার অগ্রাধিকার। তবে তিনি ছোটবেলা থেকেই ফটোগ্রাফি ও ফ্যাশনে আগ্রহী। মাঝে মাঝে কলেজের ইভেন্টে মডেলিং করেছেন বলেও জানা গেছে।

তবে এক বিষয় স্পষ্ট—এই মুহূর্তে বীরার জনপ্রিয়তা যেন এক রাতেই আকাশ ছুঁয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, এক্স (পূর্বে টুইটার) এবং ইউটিউবের বিভিন্ন পেজে তার নাম সার্চ দিলে হাজারো ভিডিও, রিলস ও পোস্ট চোখে পড়ে। কেউ বলছেন, “ওর চোখে এক অদ্ভুত দৃষ্টি আছে”, আবার কেউ বলছেন, “এ যেন পুরোনো যুগের সৌন্দর্য আবার ফিরে এসেছে।”

বীরার ভাইরাল হওয়ার ঘটনাটি বলিউডে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—‘তারকাসন্তান’ বা ‘স্টার কিড’ সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে। অনেকে বলছেন, বলিউডে এখন তারকাদের সন্তানদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অথচ বীরা নিজে এখনো কোনো কাজই করেননি। এক অর্থে, এই ঘটনাটি দেখাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব কতটা গভীর এবং কিভাবে এক মুহূর্তেই কোনো সাধারণ তরুণীকে জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে।

রজত বেদী অবশ্য সবকিছু নিয়ে সতর্ক। তিনি বলেছেন, “বীরা যদি ভবিষ্যতে সিনেমা করতে চায়, আমি পাশে থাকব। কিন্তু ওর সিদ্ধান্ত ওর নিজের হতে হবে। আমি চাই না কেউ ওর ওপর চাপ সৃষ্টি করুক বা তুলনার জালে ওকে জড়াক।”

এদিকে বীরার প্রতি মানুষের এই আকর্ষণ দেখে করিনা কাপুর নিজেও নাকি মুগ্ধ হয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় একটি বিনোদন মাধ্যম। এক সাক্ষাৎকারে করিনা বলেন, “আমি ওর ছবিটা দেখেছি, মিষ্টি মেয়ে। মানুষ আমাকে মনে করে ওর মতো, সেটাই তো প্রশংসা।”

সবমিলিয়ে, এক লালগালিচার মুহূর্তে শুরু হওয়া আলোচনার ঢেউ এখন আন্তর্জাতিক পরিসরেও পৌঁছে গেছে। বীরা বেদী নামটি এখন কেবল রজত বেদীর কন্যা হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের বলিউড অনুরাগীদের মধ্যে এক রহস্যময় আকর্ষণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সময়ের সঙ্গে হয়তো এই কৌতূহল ম্লান হবে, কিংবা হয়তো বীরা নিজেই একদিন পর্দায় এসে প্রমাণ করবেন—তিনি শুধু কারিনার মতোই নন, বরং নিজের পরিচয়ে উজ্জ্বল এক নতুন তারা হতে চলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত