প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
লা লিগায় আবারও শীর্ষে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোর আগে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গেতাফের বিপক্ষে এক নাটকীয় লড়াই শেষে ১-০ গোলের জয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। দুই লাল কার্ড, এক দারুণ গোল আর রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচ রিয়াল সমর্থকদের কাছে যেন উৎসবের রাত হয়ে উঠেছে।
রোববার রাতে গেতাফের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই উত্তেজনায় ভরা ছিল। গেতাফে তাদের ঘরের মাঠে বরাবরের মতোই প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। প্রথমার্ধে রিয়াল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের খেলায় ছিল গতি, কিন্তু ছন্দের অভাব স্পষ্ট। কিলিয়ান এমবাপে, বেলিংহাম ও রদ্রিগো চেষ্টা করেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গেতাফের জাল খুঁজে পাননি কেউ।
প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে ফেরে রিয়াল। জাবি আলোনসো বুঝতে পারেন, ম্যাচে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। তাই তিনি দ্বিতীয়ার্ধে নামান তার দুই তরুণ অস্ত্র—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্দা গুলের। মাঠে নামার পরই এই দুই খেলোয়াড় বদলে দেন ম্যাচের চিত্র। ভিনির গতি ও ড্রিবলিংয়ে বিপাকে পড়ে গেতাফের রক্ষণভাগ।
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। বদলি হিসেবে নামার মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যেই ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন গেতাফের নাইয়ম। দশজন নিয়ে পড়ে যায় স্বাগতিক দল। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে সময় নেয়নি রিয়াল। মাত্র ছয় মিনিট পরই গোল পায় তারা।
আর্দা গুলেরের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন এমবাপে। গেতাফের গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে বল জালে জড়ালে রিয়াল সমর্থকদের উল্লাসে মুখরিত হয় গ্যালারি। এটি ছিল ম্যাচের একমাত্র এবং নির্ধারক গোল। ৮৪তম মিনিটে আবারও গেতাফের বিপর্যয়। রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসকে পিছন থেকে কিক মারায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সানক্রিস। সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই লাল কার্ডে নয়জনের দলে পরিণত হয় গেতাফে।
গেতাফে তখন শুধুই লড়াই করছিল টিকে থাকার জন্য। দুই খেলোয়াড় কম নিয়ে তারা গোল হজম না করার চেষ্টা চালাতে থাকে। রিয়ালও সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। এমবাপে, বেলিংহাম, এমনকি বদলি হিসেবে নামা ব্রাহিম দিয়াজও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।
শেষ মুহূর্তে রিয়ালের জন্য দুশ্চিন্তার মুহূর্ত তৈরি হয়। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গেতাফে পায় সুবর্ণ সুযোগ। ডান দিক থেকে আসা এক ক্রসে বল পান ফরোয়ার্ড আবু কামারা। তার সামনে তখন শুধুই গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক তার অভিজ্ঞতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তে বলটি ঠেকিয়ে দেন। রিয়ালকে বাঁচিয়ে দেন সমতায় ফিরে যাওয়ার শঙ্কা থেকে। সেই সেভই শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে তিন পয়েন্ট।
পুরো ম্যাচে রিয়াল ২৩টি শট নেয়, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। গেতাফে নেয় সাতটি শট, যার মাত্র একটিই টার্গেটে ছিল। বল দখলে রিয়াল এগিয়ে থাকলেও গোল পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৩ মিনিট পর্যন্ত। তবে জয়ের আনন্দে তাতে ভাটা পড়েনি একটুও।
এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে রিয়ালের পয়েন্ট এখন ২৪। সমান ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। এল ক্লাসিকোর আগে এমন জয় দলের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ করেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো ম্যাচ শেষে বলেন, “এটা ছিল ধৈর্য ও বিশ্বাসের লড়াই। প্রথমার্ধে আমরা সুযোগ হারিয়েছি, কিন্তু দল হাল ছাড়েনি। খেলোয়াড়রা জানত, গোল আসবেই। এমবাপে ও গুলের দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছে, আর কোর্তোয়া শেষ মুহূর্তে দলকে বাঁচিয়েছে।”
এদিকে কিলিয়ান এমবাপে গোলের পর জানান, “রিয়ালের জার্সিতে প্রতিটি গোল বিশেষ কিছু। আজকের ম্যাচ কঠিন ছিল, কিন্তু দল হিসেবে আমরা লড়েছি। এল ক্লাসিকোর আগে এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে।”
ম্যাচ শেষে রিয়াল সমর্থকরা মাঠে উল্লাসে মেতে ওঠে। এই জয় যেন এল ক্লাসিকোর আগে এক ধরনের ঘোষণা—তারা প্রস্তুত বার্সেলোনাকে মোকাবিলা করতে। লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিয়াল প্রমাণ করেছে, তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ—সবকিছুই এখন তাদের পক্ষে।
রাতের এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি, জিতেছে আত্মবিশ্বাস, জিতেছে সমর্থকদের হৃদয়। এখন দৃষ্টি তাদের স্পেনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই—এল ক্লাসিকোর দিকে, যেখানে এক ভুল মুহূর্তই ঠিক করে দিতে পারে মৌসুমের ভাগ্যরেখা।