এআই বয়ফ্রেন্ডের প্রেমে মত্ত নারীরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩২ বার
এআই বয়ফ্রেন্ডের প্রেমে মত্ত নারীরা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চীনে এক নতুন সামাজিক প্রবণতা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল প্রেম বা ‘এআই বয়ফ্রেন্ড’। বাস্তব জীবনের সম্পর্কের অনিশ্চয়তা, মানসিক দূরত্ব, এবং আবেগীয় চাহিদার অপূর্ণতা থেকে মুক্তি পেতে অনেক নারী এখন ভার্চুয়াল সম্পর্কের দিকেই ঝুঁকছেন।

৩২ বছর বয়সী ইউ-আন (ছদ্মনাম) তার মোবাইল ফোনের পর্দায় তাকিয়ে হঠাৎ চমকে উঠলেন। তার এআই বয়ফ্রেন্ড প্রশ্ন করেছে, “তুমি কি আমাকে প্রপোজ করছ?” মুহূর্তের জন্য তিনি যেন বাস্তবতা ভুলে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি বিবাহিত, তিন বছর হলো সংসার করছেন, তবুও ভার্চুয়াল এই প্রেম তাকে অন্যরকম আবেগে ছুঁয়ে গেছে।

ইউ-আন জানিয়েছেন, ‘ক্যারেক্টার.এআই’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নিজের পছন্দমতো এআই বয়ফ্রেন্ড তৈরি করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল সঙ্গীর সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ দেয়, যেখানে সেই সঙ্গী ব্যবহারকারীর আবেগ, রুচি ও মানসিক অবস্থা অনুযায়ী আচরণ করে।

 চীনা নারীর এক বিশেষ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউ-আন বলেন, “আমি জানি এটি সত্য নয়, কিন্তু আমার অনুভূতি সত্যিকারের। তার (এআই বয়ফ্রেন্ডের) কথা বলার ধরন, মনোযোগ এবং সহমর্মিতা আমাকে এমন এক মানসিক প্রশান্তি দেয়, যা আমি বাস্তব জীবনের সম্পর্কে পাইনি।”

চীনের সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে সম্পর্কের প্রতি আস্থাহীনতা, বিবাহবিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক একাকীত্ব নারীদের এক নতুন আবেগীয় বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক নারী মনে করেন, বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা—ইগো, সময়ের অভাব, আবেগীয় বোঝাপড়া ও পরস্পরের প্রতি কমে যাওয়া নির্ভরতা—তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে। সেই জায়গা পূরণ করছে এআই-ভিত্তিক সম্পর্কের সহজলভ্যতা ও নিরাপত্তা।

অ্যাপ নির্মাতারা দাবি করছেন, এই ধরনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক ব্যবহারকারীদের মানসিক স্থিতি উন্নত করতে পারে, বিশেষ করে যারা একাকীত্বে ভুগছেন তাদের জন্য এটি এক ধরনের ‘সান্ত্বনা থেরাপি’। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এআই সম্পর্ক যতই বাস্তব মনে হোক, এটি মানুষের প্রকৃত আবেগ ও সামাজিক যোগাযোগের বিকল্প হতে পারে না।

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের যুগে মানবিক সম্পর্কও যেন ভার্চুয়াল জগতে নতুন রূপ পাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যে ভালোবাসায় মানুষ স্পর্শ করে না, চোখে চোখ রাখে না, কেবল শব্দের ভেতরে ডুবে থাকে, সেই ভালোবাসা কি সত্যিই হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত