চাল-সবজির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম, মুরগি-ডিমে সামান্য শিথিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫ বার
চাল-সবজির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম, মুরগি-ডিমে সামান্য শিথিলতা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ‘২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কোরবানির ঈদের পর থেকে দেশের বাজারে চালের দাম ক্রমেই বাড়ছে, যা গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম বৃদ্ধির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। এতে করে ক্রেতাদের জন্য চাল ও সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মুরগি ও ডিমের বাজারে সামান্য দাম কমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও খামারিদের জন্য এই অবস্থার প্রভাব নেতিবাচক। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচার বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মোকামগুলোতে চালের দাম বেশি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। ঈদের পর চালকল মালিকরা কারবার চাঙ্গা হওয়ার সুযোগে দাম বাড়িয়েছেন, যা বর্তমানে প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া, ঈদের আগের তুলনায় এখন বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি মানভেদে ২ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তি। মোটা চাল যেমন বিআর-২৮, পারিজা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায়; সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল ও মিনিকেটের দাম ওঠানামা করছে যথাক্রমে ৭৪ থেকে ৮৪ টাকা কেজি; আর কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৬ টাকায়।

মালিবাগের আল্লাহর দান স্টোরের চাল বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “নাজিরশাইল ছাড়া পাইজাম, বিআর-২৮ ও মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে ৬৮ টাকায় পাইকারি কিনতাম, এখন ৭৬ টাকায় কিনছি।” অন্যদিকে, ছোট বাজার ও পাড়ার মুদি দোকানে দাম আরও একটু বেশি। রামপুরা বাজারের বিক্রেতা জুবায়ের আলী জানান, “ঈদের পর থেকে দোকানে অর্ডার দিচ্ছি, সব চালের দাম বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দিনাজপুর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া সহ বিভিন্ন মোকামে দাম বাড়ছে।”

অন্যদিকে মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা শিথিলতা লক্ষণীয়। ঢাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। ডিমের দাম কমে এসেছে প্রতি ডজন প্রায় ১২০ টাকায়, বড় বড় বাজারে ১১৫ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে। তবে খামারিদের জন্য এই দাম লোকসানের কারণ হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, কমপক্ষে ১৪০ টাকার ওপরে ডিমের দাম না হলে তাদের লাভ হচ্ছে না।

তেলের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই, চিনি, ডাল, আটা, ময়দা, সুজিসহ বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। পেঁয়াজ, আলু, আদা, রসুনসহ নিত্যপণ্যের দামও অনেকটা কম রয়েছে।

সবজির দিক থেকে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি। সেগুনবাগিচার সবজি বিক্রেতা তাকদির হোসেন জানান, “বরবটি, কাকরোল, উস্তা জাতীয় সবজি এখন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে, পটোল, ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।” তবে বড় বাজার এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানে সবজির দাম কিছুটা কম থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চাল ও সবজির দাম বাড়ায় জনজীবনে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও মুরগি ও ডিমে সামান্য কম দামে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। বাজারের এ ধারা কবে স্থিতিশীল হবে তা সময়ই বলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত