চেলসির তরুণদের ঝড়ে আয়াক্স বিধ্বস্ত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
চেলসির তরুণদের ঝড়ে আয়াক্স বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের আলো ঝলমলে রাতে চেলসির তরুণরা যেন ফুটবলের এক নবযুগের সূচনা করে ফেলল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই স্মরণীয় ম্যাচে ডাচ শক্তিশালী দল আয়াক্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল ব্লুজরা। তরুণ প্রতিভায় ভরা এক দলের এমন দাপুটে জয় শুধু স্কোরলাইনেই নয়, ইতিহাসের পাতায়ও জায়গা করে নিল।

খেলার শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছিল চেলসির কৌশলগত আগ্রাসন। দলটির কোচ এনজো মারেসকা ম্যাচের আগেই বলেছিলেন, “আমাদের তরুণরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, তারা আজই প্রস্তুত।” ঠিক সেটিই প্রমাণ করলেন তারা। ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিটে ১৯ বছর বয়সী মার্ক গুইয়ো গোল করে চেলসির পক্ষে জয়সূচনা করেন। তাঁর এই গোলের মধ্য দিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়নস লিগ গোলদাতা।

তবে এই রেকর্ড স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ম্যাচের ৩৩ মিনিট পরই আরেক তরুণ তারকা, মাত্র ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এস্তেভাও উইলিয়ান পেনাল্টি থেকে গোল করে গুইয়োর রেকর্ড ভেঙে দেন। এর আগে এনজো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন, আর আয়াক্সের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি আসে ভাউট ভেগহোর্স্টের পা থেকে। ম্যাচের মাঝপথেই মইসেস কাইসেদোর দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। প্রথমার্ধের শেষদিকে আয়াক্স অধিনায়ক কেনেথ টেইলরের লাল কার্ড তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় — সেই মুহূর্ত থেকেই যেন পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চেলসির তরুণদের হাতে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ১৮ বছর বয়সী টিরিক জর্জ দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। তাঁর গোলটি শুধু ব্যবধান বাড়ায়নি, বরং ইতিহাসও লিখে দিয়েছে— একই ম্যাচে তিনজন কিশোর খেলোয়াড়ের গোল করার ঘটনা চেলসির ১১৯ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ১৭ বছর বয়সী রেজি ওয়ালশ। তিনি হয়ে ওঠেন চেলসির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়, যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ করেছেন। ইংরেজ ফুটবলের ইতিহাসেও তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নেন এই আসরে।

এই ম্যাচে চেলসি ব্যবহার করেছে এমন এক একাদশ, যার ১০ জন খেলোয়াড়ের বয়স ২১ বছরের নিচে। ক্লাবের ইতিহাসে এত তরুণ দল নিয়ে ইউরোপের কোনো ম্যাচে নামার নজির নেই। দর্শকদের মধ্যে তখন উচ্ছ্বাস আর বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া— স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ যেন এক মুহূর্তে হয়ে উঠেছিল তরুণদের স্বপ্নের মঞ্চ।

অন্যদিকে আয়াক্সের জন্য রাতটি ছিল নিদারুণ এক দুঃস্বপ্ন। প্রথমার্ধেই তারা তাল হারিয়ে ফেলে, শৃঙ্খলার অভাব ও ডিফেন্সিভ দুর্বলতায় বারবার ভুগতে থাকে। চেলসির আক্রমণভাগের তীব্রতা তাদের গোটা দলকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এক সময় ইউরোপীয় ফুটবলে তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার আদর্শ হিসেবে পরিচিত ছিল আয়াক্স; কিন্তু এখন সেই ভূমিকা যেন ক্রমেই চেলসির দিকে সরে যাচ্ছে।

ম্যাচশেষে কোচ এনজো মারেসকা বলেন, “এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এটি চেলসির ভবিষ্যতের এক ঘোষণা। আমাদের তরুণরা আজ প্রমাণ করেছে যে অভিজ্ঞতার অভাব নয়, আত্মবিশ্বাসই আসল শক্তি।”

চেলসির এই জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে জয় পেল। অন্যদিকে আয়াক্সের অবস্থান টেবিলের একেবারে নিচে— তিন ম্যাচে কোনো জয় নেই, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখেছে তারা। তাদের ফুটবলে আত্মবিশ্বাসের সংকট যেন দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

চেলসির সমর্থকদের জন্য এই জয় এক অনন্য আনন্দের উৎস। অনেকেই মনে করছেন, এই তরুণদের হাত ধরেই ক্লাবটি আবারও ইউরোপের শীর্ষে ফিরে আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচের পর থেকেই শুরু হয় প্রশংসার বন্যা— কেউ লিখেছেন “চেলসির নতুন সোনালি প্রজন্মের উত্থান,” কেউবা বলেছেন “তরুণদের হাতেই ভবিষ্যতের ইউরোপ।”

এখন চেলসির সামনে অপেক্ষা আজারবাইজানের কারাবাখের বিপক্ষে ম্যাচ। দলটি চাইবে এই ফর্ম ধরে রাখতে এবং তরুণদের উদ্যমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন ইতিহাসের পথে এই ব্লুজদের অগ্রযাত্রা থামানো সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সেই রাতে শুধু একটি জয়ই হয়নি, জন্ম নিয়েছে এক নতুন আস্থা, এক নতুন স্বপ্ন— চেলসির তরুণরা ইউরোপে আবারও তাদের গৌরব ফেরানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত