বেঁচে থাকার চেয়ে বাঁচা জীবন উদযাপনই শ্রেয়: পরীমনি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
বেঁচে থাকার চেয়ে বাঁচা জীবন উদযাপনই শ্রেয়: পরীমনি

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন আজ। শিল্পজীবনের শুরুর দিনগুলো থেকে পরীমনি সবসময়ই তার জন্মদিনকে জাঁকজমকভাবে উদযাপন করে আসতেন। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও ব্যস্ততার কারণে গত তিন বছর ধরে তার জন্মদিন কেটেছে নিঃসঙ্গ বা ঘরোয়া পরিবেশে, কোনো বড় অনুষ্ঠান বা জমকালো উদযাপন ছাড়াই। এবারও পরিস্থিতি বিশেষ কিছুটা ভিন্ন ছিল, তবে তার উদযাপন মূলত ব্যক্তিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটেছে।

এবার জন্মদিনের চার দিন আগে, পরীমনি নিজেই একটি ছোট আয়োজন করে কেক কেটে উদযাপন করেছেন। সেই মুহূর্তের কিছু ছবি তিনি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। ছবি ও পোস্টের মাধ্যমে তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের জানিয়ে দিয়েছেন, জন্মদিনকে শুধুমাত্র পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে জীবনকে বাঁচার আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করাই তার জন্য মূল বিষয়। ২৪ অক্টোবর জন্মদিনের দিন নিজেই ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “এ জীবন শুধু বেঁচে থাকার চেয়ে বাঁচা জীবন উদযাপন করাই শ্রেয়। জীবনের আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, কষ্ট, সুখ, ভালোবাসা—সব কিছু নিয়েই আজকের এই জীবন।” পোস্টের শেষে তিনি নিজেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা তার ভক্তদের জন্য এক গভীর মানবিক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।

পরীমনি এই বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, জীবনের যেকোনো মুহূর্তকে শুধুমাত্র বেঁচে থাকা নয়, বরং বাঁচার আনন্দ ও মুহূর্তগুলোর পূর্ণতা উদযাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রাখে। পরীমনি প্রায়শই তার চলচ্চিত্র এবং মিডিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র অভিনয় নয়, বরং মানবিক ও সামাজিক বিষয়গুলোরও সঙ্গে পাঠক ও দর্শকদের সংযোগ তৈরি করেন।

এই বছর জন্মদিনে পরীমনি দেশে থাকছেন না। সেই কারণে আগেভাগেই কেক কেটে উদযাপন করেছেন। সেই সময় তার পাশে ছিলেন অর্ক নামে এক ব্যক্তি। ছবি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ভক্ত ও অনুরাগীরা জিজ্ঞেস করতে শুরু করেছেন, অর্ক কে এবং তার সঙ্গে পরীমনির সম্পর্ক কী। পরে পরীমনি বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, অর্ক একজন মেকআপ আর্টিস্ট, যার সঙ্গে পরিচয় কাজের সুবাদে। ঢাকায় তিনি একাই থাকেন এবং পরীমনির বাসাও একই এলাকায়। অর্ক মাঝে মাঝে রান্না করেন এবং তাদের মধ্যে খাবারের আদান-প্রদান হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ক তার কাছে একটি প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছেন।

পরীমনি আরও বলেছেন, “তার অনেক ছোট ছোট আবদার থাকে। তার একটি আবদার পূরণ করতে গিয়ে এই জন্মদিনের ছোট উদযাপন হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি এই অবস্থা।” তিনি অর্ককে ‘ভাই’ সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং একটি ভালোবাসার ইমোজি পোস্টে যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এটাই এবারের জন্মদিনের প্রথম উদযাপন।”

পরীমনির জীবনে প্রতিটি জন্মদিন শুধু একটি তারিখ নয়, বরং জীবনের আনন্দ ও সংকটকে উপলব্ধি করার একটি মুহূর্ত। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। সেই সময় থেকে তিনি ঢালিউডে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। শুধুমাত্র নায়ক নয়, বরং তিনি যেসব চরিত্রে অভিনয় করেন, তা তার ভক্তদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

সম্প্রতি পরীমনি অনম বিশ্বাসের ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’-এ অভিনয় করেছেন, যা দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। পাশাপাশি তার নতুন ছবি ‘ডোডোর গল্প’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজের কাজের ব্যস্ততার মাঝেও জন্মদিন উদযাপনকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন, তবে ব্যক্তিগত এবং মানবিকভাবে।

পরীমনি জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, জীবন শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তকে বাঁচার আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। তার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং অনুরাগীদের মধ্যে গভীর প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে। ভক্তরা জানিয়েছেন, এই ধরনের বার্তা তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নিজস্ব জীবনের মূল্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

এছাড়া জন্মদিন উদযাপনের ছবিগুলোতে দেখা যায়, পরীমনি খুব সহজভাবে, ঘরোয়া পরিবেশে কেক কেটে আনন্দ উপভোগ করছেন। তার হাসি, আনন্দ, এবং ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর খুঁজে পাওয়া বার্তাগুলো অনুরাগীদের হৃদয়ে প্রভাব ফেলেছে। তিনি যেমন অভিনয়ে ব্যস্ত, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনকে সংরক্ষণ ও উদযাপন করতে সময় দিচ্ছেন।

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

পরীমনির এই জন্মদিন উদযাপন শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়, বরং এটি ভক্তদের জন্য এক মানবিক বার্তা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে, সুখ ও দুঃখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁচতে শেখাচ্ছে। ছোট উদযাপন হলেও বার্তা এবং অনুভূতি গভীর।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, পরীমনি কেবল একজন চিত্রনায়িকা নন; তিনি সামাজিক ও মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়াতেও দক্ষ। জন্মদিনের এই পোস্ট এবং উদযাপন তার ভক্তদের কাছে একটি প্রেরণাদায়ক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে। এটি প্রমাণ করে, একজন শিল্পী ব্যক্তিগত আনন্দ ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।

সবশেষে বলা যায়, পরীমনির জন্মদিন উদযাপন জীবনকে বাঁচার আনন্দের সঙ্গে দেখার একটি দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি ও ভক্ত উভয়ের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা, যা শেখাচ্ছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দিতে। ছোট আয়োজন হলেও উদযাপনের প্রভাব এবং মানবিক বার্তা স্থায়ী ও গভীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত