প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহর অকাল মৃত্যু আজও রহস্যের ঘেরাটোপে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর, সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে এই মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই মামলার প্রেক্ষাপটে অভিনেত্রী শাবনূরের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। এ নিয়ে তিনি সম্প্রতি তার ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
শাবনূর তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “২৯ বছর আগে কিংবদন্তী নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন আমি সংবাদমাধ্যমের খবরে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই শুরুতে এ নিয়ে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ সংক্রান্ত এই মামলার সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভ্রান্ত প্রচার ছড়াচ্ছেন। আমার সম্পর্কে ভিত্তিহীন এসব গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সবাইকে অনুরোধ করছি সত্যতা বিবর্জিত ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকুন।”
তিনি আরও বলেন, “সালমান শাহ ছিলো আমার অত্যন্ত প্রিয় সহ-অভিনেতা। আমরা একসঙ্গে প্রায় ১৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। সালমান ছিলো একজন জনপ্রিয়, অসাধারণ শক্তিমান এবং প্রতিভাবান অভিনেতা। নিঃসন্দেহে বলতে পারি তাঁর সঙ্গে কাজ করে আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বিকশিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।”
শাবনূর তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, “সালমান শাহর অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। আমাদের জুটির সাফল্য একসময় অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তার মৃত্যুর পর কেউ কেউ হয়তোবা নিজেদের বাঁচাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। আমাদের নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে, যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে।”
তিনি বলেন, “তবে আজও আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই — সালমান শাহ কিভাবে মারা গেছে তা আমি সত্যিই জানি না। আমি শুধু তাঁর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যে-ই দোষী হোক না কেন, তাকে যেন আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয় — এটাই আমার একান্ত দাবি ও প্রত্যাশা।”
শেষে, শাবনূর বলেন, “সন্তান হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের তা সালমানের মা নীলা আন্টির আহাজারি দেখলেই অনুভব করতে পারি। আমি আন্টি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং সর্বোপরি সালমান শাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”
শাবনূরের এই বিবৃতি তার ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে যে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। এখন দেখার বিষয়, এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কিভাবে এগিয়ে যায় এবং সালমান শাহর অকাল মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হয় কিনা।