নির্বাচনী মাঠে -আসিফ-মাহফুজ ,পদত্যাগ করবেন ডিসেম্বরেই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
আসিফ-মাহফুজ পদত্যাগ করবেন নামবেন কি নির্বাচনী মাঠে!!

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ ও সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে গুঞ্জন। নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তার আগেই এই দুই তরুণ উপদেষ্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় থেকে জেলা পর্যন্ত চলছে নানা জল্পনা, সমালোচনা ও বিশ্লেষণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্রগুলো জানায়, ডিসেম্বরের শুরুতেই তারা দুজনেই পদত্যাগ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, দুজনই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের নির্বাচনী এলাকা প্রস্তুত করছেন বলেও জানা গেছে। সরকার ও রাজনৈতিক মহলে ধারণা জোরদার হচ্ছে যে, এই পদত্যাগ আসন্ন নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যখন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, তখন জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে দুই তরুণ ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের নিয়োগকে তখন স্বাগত জানানো হয়েছিল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে।

প্রথমে মাহফুজ আলম ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। পরবর্তীতে তিনি পূর্ণাঙ্গ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তাদের দুজনেরই দায়িত্ব পালনে সক্রিয়তা ও দৃঢ় অবস্থান আলোচনায় আসে, তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক ভূমিকা ও পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রকাশ্যে নাম উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে—তাদের সংশয় মূলত এই দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে ঘিরেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই মাহফুজ ও আসিফকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তারা নিজেরাও অস্বীকার করেননি। আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আমি দায়িত্ব ছাড়ব। রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ যদি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকে, সেটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য শুভ নয়।”

অন্যদিকে মাহফুজ আলমও স্বীকার করেছেন যে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে ‘অন্তর্মুখী দ্বিধায়’ আছেন। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ হয়তো কুমিল্লা-৩ নয়, বরং রাজধানী ঢাকার কোনো একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে মাহফুজ আলমের নাম শোনা যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তিনি বিএনপি বা এনসিপি উভয় ব্যানারের মাধ্যমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার ভাই মাহবুব আলম ইতিমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, “দুই ছাত্র উপদেষ্টা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও কিছু বিষয়ে দলটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।” ফলে দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, তারা এখন সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে কাজ করছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, “যে কেউ রাজনীতিতে আসতে চাইলে আগে সরকারি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান, এনসিপি তাদের স্বাগত জানাবে।”

অন্যদিকে এনসিপির মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, “এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি, তবে তাদের যোগদান নিয়ে আলোচনা হলে এনসিপি তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।”

তবে দলের ভেতরেও মতভেদ আছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন মনে করেন, “ছাত্র উপদেষ্টা থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক। তাদের পদত্যাগ সরকারের গণবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিফ ও মাহফুজের পদত্যাগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতিতে নতুন তরঙ্গ তুলতে পারে। তারা তরুণ প্রজন্মের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরিন ইসলাম মনে করেন, “তাদের পদত্যাগ সরকারের নিরপেক্ষতার বার্তা হিসেবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার যদি তারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন, তাহলে তরুণ ভোটারদের একাংশ নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখতে পাবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ শেষবারের মতো বলেন, “আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এজন্য সরকারের দায়িত্বে থাকা যে কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত থাকেন, তাদের তফসিলের আগেই পদত্যাগ করা উচিত।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এমন এক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যা নিয়ে জাতি গর্ব করতে পারে, সন্দেহ নয়।”

দেশজুড়ে এখন শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরছে—ডিসেম্বরে যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, তখন মাহফুজ ও আসিফ কি আসলেই পদত্যাগ করবেন? না কি তারা থেকে যাবেন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে?

যেভাবেই হোক, তাদের এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক অবস্থান ও আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম সূচক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত