কারিনা কাপুরের ফিটনেস রহস্য: ৪৫ বছরে তরুণতার রসদ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
কারিনা কাপুরের ফিটনেস রহস্য: ৪৫ বছরে তরুণতার রসদ

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের দিগ्गজ অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান ৪৫ বছর বয়সেও নিজের ফিটনেস এবং প্রাণবন্ত রূপে সতেজ হয়ে আছেন। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা এবং অভ্যাসের সমন্বয়ে তিনি প্রতিদিন নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেন। এ ফিটনেস বজায় রাখার পিছনে শুধু শারীরিক পরিশ্রম নয়, বরং তার ব্যক্তিগত ফিটনেস কোচ মহেশ ঘনেকরের নিয়মিত পরামর্শ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণও রয়েছে।

মহেশ ঘনেকর জানিয়েছেন, কারিনা কাপুর ফিটনেসকে কেবল ব্যায়ামের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনধারার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি নিয়মিত যোগব্যায়াম, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং বিভিন্ন শক্তি অর্জনের ব্যায়াম করে থাকেন। এটি কেবল শরীরকে ফিট রাখে না, মনোযোগ এবং স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি করে। অভিনেত্রী চ্যালেঞ্জ নিতে সবসময় প্রস্তুত থাকেন এবং প্রতিদিন নিজের সীমা ছাড়ানোর চেষ্টা করেন।

মহেশ ঘনেকর আরও বলেছেন, কারিনার স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বাড়িতেই করা হয়, যা তার ব্যস্ত সিনেমার শিডিউলকেও ব্যাহত করে না। তিনি তিনটি বিশেষ ব্যায়ামের উদাহরণ দিয়েছেন, যা ফিটনেস বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথম ব্যায়ামে দাঁড়িয়ে সামনের মাটিতে ছোট একটি বেঞ্চ বা টুল রাখার পর দুই হাতে মাটির স্পর্শ করতে হয় এবং তারপর আগের অবস্থায় ফিরে আসতে হয়। এই ব্যায়াম পেট এবং কোমরের মেদ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরের মূল শক্তি বৃদ্ধি করে।

দ্বিতীয় ব্যায়ামটি আরও চ্যালেঞ্জিং। একটি বেঞ্চের ওপর লম্বা কোনো বস্তু রাখতে হয়। মাটিতে দাঁড়িয়ে একটি পা সেই উঁচু বস্তুটির ওপর দিয়ে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে নিয়ে যেতে হয়, এরপর অন্য পায়ে একইভাবে ব্যায়ামটি করতে হয়। এটি লেগসের শক্তি ও ভারসাম্য উন্নত করে।

তৃতীয় ব্যায়ামে দুটো হালকা ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার করা হয়। একটি বেঞ্চের ওপর বসে বা উঠার সময় দুই হাতে ডাম্বেল নিয়ে সামনের দিকে ক্রমাগত হাত সরানো হয়, যেন ঘুসি মারার মতো অঙ্গভঙ্গি হয়। এই ব্যায়ামটি কেবল হাত ও কাঁধকে শক্তিশালী করে না, পুরো শরীরের সান্ধ্যকাঠামো এবং স্থিতিশীলতাকেও বৃদ্ধি করে।

ফিটনেসের পাশাপাশি কারিনা তার খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সচেতন। তিনি প্রাকৃতিক খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং পর্যাপ্ত ঘুমকে তার রুটিনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে ধরে রেখেছেন। এই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং ব্যায়ামের নিয়মিত অভ্যাস তাকে ৪৫ বছরে তরুণ ও ফিট রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারিনার উদাহরণ প্রমাণ করে যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখলেই দীর্ঘ সময় সুস্থ, ফিট এবং প্রাণবন্ত থাকা সম্ভব। তার এই রুটিন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিল্পী জীবনের ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপের মাঝেও কারিনা নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিতে কোনো কমতি রাখেন না। তার ফিটনেস কোচের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যায়াম সুক্ষ্মভাবে করা হয় যাতে শরীরের সব অংশ সমানভাবে শক্তি অর্জন করে এবং আঘাতের ঝুঁকি কমে। এই ধরণের পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ব্যায়ামের কারণে তার শরীরের টোনিং, স্থিতিশীলতা এবং শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে।

কারিনার ফিটনেস রুটিন শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। যোগব্যায়াম এবং স্ট্রেস রিলিফের ব্যায়াম তার মানসিক স্থিতিশীলতা এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মহেশ ঘনেকর জানান, মানসিক শক্তি এবং শারীরিক শক্তি একসাথে থাকলেই ফিটনেসের প্রকৃত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

কারিনা কাপুরের জীবনের এই ফিটনেস অধ্যায় অনেক ফ্যান এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকারী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তার কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অভ্যাস এবং ধৈর্য প্রমাণ করে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা এবং সঠিক জীবনধারার মাধ্যমে দীর্ঘদিন তরুণ, সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব।

এভাবেই বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান ৪৫ বছরে এসে নিজেকে ফিট এবং প্রাণবন্ত রাখতে পেরেছেন। তার নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ব্যক্তিগত ফিটনেস কোচের নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, যা প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত