নব্বইয়ের দশকের গল্প নিয়ে পর্দায় আসছেন নকীব খান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭১ বার
নব্বইয়ের দশকের গল্প নিয়ে পর্দায় আসছেন নকীব খান

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নকীব খান সম্প্রতি পর্দায় নব্বই দশকের ব্যান্ডসংগীতের গল্প তুলে ধরেছেন। স্কুলজীবনেই ব্যান্ড সংগীতের পথে যাত্রা শুরু করা নকীব খান প্রথমে চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যান্ড ‘বালার্ক’-এ যোগ দেন, এরপর ‘সুরেলা’ দিয়ে তার সঙ্গীত যাত্রা এগিয়ে যায় ‘সোলস’-এ। প্রায় এক দশক তিনি ঐতিহ্যবাহী ব্যান্ড সোলসের সঙ্গে কাজ করেন এবং ‘মুখরিত জীবনের চলার পথে’, ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুরকার হিসেবে নিজের নাম সুপরিচিত করেন।

সোলস ছেড়ে ঢাকায় এসে তিনি ১৯৮৫ সালে গঠন করেন ব্যান্ড ‘রেনেসাঁ’। রেনেসাঁর প্রধান ভোকালিস্ট, কি-বোর্ডিস্ট, সুরকার ও কম্পোজার হিসেবে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ‘ভালো লাগে জোছনা রাতে’, ‘আচ্ছা কেন মানুষগুলো এমন হয়ে যায়’, ‘হৃদয় কাদামাটির কোন মূর্তি নয়’, ‘ও নদীরে তুই যাস কোথায় রে’, ‘আজ যে শিশু’সহ রেনেসাঁর গানগুলো আজও শ্রোতাদের মনে তাজা।

নকীব খান নব্বই দশককে ব্যান্ডসংগীতের স্বর্ণযুগ হিসেবে বর্ণনা করেন। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘নাইনটিজ মিউজিক স্টোরি’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নব্বই দশক আমাদের ব্যান্ডসংগীতের স্বর্ণযুগ ছিল। এই সময় ব্যান্ডের জাগরণ ঘটে এবং আমরা সেই সময়ে সংগীতের নতুন ধারার সূচনা করি।” অনুষ্ঠানে তিনি ব্যান্ড জীবনের নানা স্মৃতি ও নিজের সৃষ্টিগ্রন্থনের গল্পও তুলে ধরেন।

নকীব খান জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম গান সুর করেন তিনি। সোলসের দিনগুলো, রেনেসাঁ গঠন, জনপ্রিয় গানগুলোর সৃষ্টির পেছনের গল্প এবং কিছু অকাল প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পীর কথা স্মৃতিমণিতে পুনরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি নস্টালজিক হয়ে পড়েন এবং অতীতের অভিজ্ঞতা ও সংগীত যাত্রার স্মৃতিগুলো ভাগাভাগি করেন।

রিয়াদ শিমুলের গ্রন্থনা ও এস এম হুমায়ুন কবিরের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে আগামীকাল, শনিবার রাত ১২টায়। অনুষ্ঠানে নকীব খান নব্বই দশকের ব্যান্ডসংগীতের ঐতিহ্য, সৃষ্টিশীলতা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প দর্শক ও শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরবেন। এই আয়োজনটি ব্যান্ডসংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে।

নকীব খানের এই প্রয়াস শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, এটি বাংলাদেশে ব্যান্ডসংগীতের স্বর্ণযুগের পুনর্মূল্যায়ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস হতে পারে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকরা নব্বই দশকের ব্যান্ডসংগীতের আবহ, শিল্পীদের সংগ্রাম ও সৃষ্টিশীলতার কাহিনী ঘেঁষে জানতে পারবেন।

নকীব খানের গল্প ও সঙ্গীতকর্মের নস্টালজিক চিত্রকল্প দর্শককে ফিরিয়ে নেবে সেই সময়ে, যখন ব্যান্ডসংগীত ছিলো নবীনদের সৃষ্টিশীলতার এক অবাধ উৎসব। নব্বই দশকের সেই স্বর্ণালী সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আজও অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে গেছে, যা পর্দার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত