গণভোট ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা করবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন নিশ্চিত ১৫ ফেব্রুয়ারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
গণভোট ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা করবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন নিশ্চিত ১৫ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নির্বাচনের তারিখকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গৃহীত যে কোনো সিদ্ধান্তই প্রধান উপদেষ্টার ওপর নির্ভর করছে। তবে দেশবাসীর জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং কোন শক্তি বা প্রভাব সেটিকে পিছিয়ে দিতে সক্ষম নয়।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে ‘মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন ২০২৫’ অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “গণভোট ইস্যুতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা প্রধান উপদেষ্টা নির্ধারণ করবেন। আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত শুনেছি, কিন্তু তা কোনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত সর্বোত্তম হবে। দেশের নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে অনুষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত।”

শফিকুল আলম আরও জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর আদালত প্রধানমন্ত্রীর বিচার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ বা মতামত যে কোনোটিই নির্বাচন পেছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। দেশের সংবিধান ও আইনের নিয়মাবলী অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।

এছাড়াও, শফিকুল আলম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানেও সমাজের সব স্তরে নারীরা সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে। তারা শিক্ষা, প্রশাসন, রাজনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

অনুষ্ঠানটি তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান ও মেধার বিকাশকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার সভাপতি ছিলেন জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম প্রমি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাঈল হোসেন।

মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন ২০২৫-এর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি গ্রহণের মনোভাব বৃদ্ধি করা এবং তাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই ধরনের আয়োজন তাদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে উৎসাহ প্রদান করা হবে।

প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু শিক্ষাগত উন্নয়নই নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায় এবং দলগতভাবে কাজ করার মনোভাব তৈরি করে। ফাউন্ডেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌথভাবে এমন আয়োজনকে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, “আমরা চাই তরুণরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থাকুক, বরং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে সমাজে ভূমিকা রাখুক। এই ধরনের প্রতিযোগিতা সেই দিকেই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যায়।”

এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নোবিপ্রবি এবং জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষতা পরীক্ষা করতে পারছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।

একই সঙ্গে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনকে ঘিরে তরুণরা সচেতন হচ্ছে এবং সমাজে তাদের দায়িত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে। শফিকুল আলমের মন্তব্য অনুসারে, নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত যে কোন সিদ্ধান্তই প্রধান উপদেষ্টার অধীনে গ্রহণ করা হবে, এবং তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কার্যকর করা নিশ্চিত।

এই ধরনের অনুষ্ঠান এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কার্যক্রম দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের সম্যক অংশগ্রহণের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তাছাড়া, নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখছে।

পরিশেষে, মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন ২০২৫ প্রদর্শন করেছে যে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রণোদিত করা সম্ভব। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জন করছে না, বরং তাদের চিন্তাশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত