ঝটিকা মিছিল থেকে আ’লীগের ৩০০০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
usskinbright.com/courses/digital-marketing/ ছাত্র দলের ৩০ জনই এর মধ্যে ১৮ জন ছাত্র লীগ কমিটিতে

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । স্টাফ রিপোর্টার, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলতি বছর রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল থেকে প্রায় তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), যাদের মধ্যে প্রায় সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বমোট ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানার পুলিশ ও বিশেষ ইউনিটসহ সিটি পুলিশ প্রধানমুখে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আটক করেছে। শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ১৮ জন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট থেকে ১৩ জন, খিলক্ষেত থানা থেকে চারজন, উত্তরা পশ্চিম থানা দুইজন, বাড্ডা থানা তিনজন, বনানী থানা তিনজন এবং তেজগাঁও থানা তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সক্রিয় নেতাকর্মী।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের আকাশ টাওয়ারের সামনে ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলাকালে ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হাসান সোহান ও রকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে খিলক্ষেত থানার পুলিশ পুরাতন মস্তুল চেকপোস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল রুখতে উপস্থিত হয়। পুলিশ দেখার সঙ্গে সঙ্গে তারা পালানোর চেষ্টা করলে আনিসুজ্জামান রনি, মুন্না মিয়া, জাকির হোসেন ও কামরুজ্জামানকে ব্যানারসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী অবৈধ মিছিলে অংশ নেয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বজলুর রহমান, নুর আলম সিদ্দিক, মহিউদ্দিন আহমেদ দোলনসহ ১৮ জনকে আটক করে। বাড্ডা থানার দল সকাল ৭টায় প্রগতি সরণির মূল সড়কে অভিযান চালিয়ে ইয়াসিন আরাফাত শুভ, তাসরীপ হোসেন ও খালেদ বিন কাওসারকে আটক করে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) বিজয়নগর এলাকায় সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাঁধন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল ইসলামসহ ১৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। বনানী থানার দল দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ঢাকা গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে জিয়াদ মাহমুদ, জিয়াদ ও আসলামকে আটক করে। তেজগাঁও থানার পুলিশ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিজয় সরণি এলাকায় মিছিলের প্রাক্কালে রিফাত ইসলাম, মিল্লাত বাবু ও স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর বেআইনি কার্যক্রম বা উসকানিমূলক তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সকল প্রক্রিয়াই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে এই ধরনের ঝটিকা মিছিল রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষত সরকারি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর আশেপাশে। তাই ডিএমপি নানা ইউনিটের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক অভিযান চালাচ্ছে যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

এদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চলমান পরিস্থিতি রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মনোবল ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব ও কর্মীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার শহরে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট। আইন-শৃঙ্খলার দিক থেকে এই ধরনের অভিযান জরুরি হলেও রাজনৈতিক সম্প্রদায় ও নাগরিকদের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এখন পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান এবং ঝটিকা মিছিলের প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা অবস্থা বজায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো বেআইনি কার্যক্রম পুনরায় সংঘটিত না হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই পদক্ষেপই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, রাজধানীতে অবৈধ জনসমাবেশ, ঝটিকা মিছিল বা যে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড toleration করা হবে না। রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোকে সরকারিভাবে অনুমোদিত নিয়ম ও শর্ত অনুযায়ী আন্দোলন ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত