প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোট-সমীকরণ, সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে, তখন জাতীয় সংস্কার পার্টি (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছে। দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, সংস্কারের পক্ষে যে রাজনৈতিক শক্তি অবস্থান নেবে, আগামী নির্বাচনে জয় এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারাই অর্জন করবে।
শুক্রবার বিকেলে ঝালকাঠি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। সভা শেষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তারা জানে, পুরনো ব্যর্থতা আর দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো সংস্কার। সেই সংস্কারের রাজনীতি করছে এনসিপি। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী সংসদে এনসিপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “এনসিপি যে অবস্থান নেয়, দিনশেষে সবাইকেই সে অবস্থানে আসতে হয়। কারণ, সময় এখন বাস্তবতার রাজনীতি বোঝার। মাঠে যারা খেলছে, ট্রফিটাও তারাই তুলবে। আর সে ট্রফি এনসিপিই নিচ্ছে।”
সভায় উপস্থিত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মীর সামনে হাসনাত দাবি করেন, এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে সারাদেশে সংস্কারমুখী রাজনীতির প্রতি জনসমর্থন দ্রুত বাড়ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে হাসনাত বলেন, “জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজন দেখা দিলে আমরা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে থাকা শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। সেই আলোচনা ইতোমধ্যেই চলছে। আমরা এমন কোনো জোটে যাব না, যেখানে পুরনো রাজনীতির ব্যর্থতা পুনরাবৃত্তি হবে।”
তিনি বলেন, এনসিপি বিশ্বাস করে, রাজনীতি মানে দায়বদ্ধতা ও বাস্তবতার সম্মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা রাজনীতিতে তত্ত্ব নয়, বাস্তব ফলাফল চাই। জনগণ দেখতে চায় কাজ—বক্তৃতা নয়। তাই এনসিপি মাটির মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থেকেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”
অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হাসনাত স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা চাই, আসন্ন নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত পরিবেশে হোক। অন্তর্বর্তী সরকার যেন নির্মোহ ও দায়বদ্ধ থাকে—এই প্রত্যাশা আমাদের। আমরা কাউকে বাদ দিতে চাই না, বরং সবাইকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দিনশেষে জয় হবে গণতন্ত্রের, জয় হবে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার। আমরা চাই—কেউ যেন প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারে। ডিসি-এসপিদের গণিমতের মাল হিসেবে ভাগাভাগি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা এখন বন্ধ হওয়া দরকার।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মাইনুল ইসলাম মান্না। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির, যুগ্ম সম্পাদক লায়লা সুলতানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদসহ দলটির স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতারা।
সভায় বক্তারা বলেন, এনসিপি এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি গণআন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছে। তারা বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ পুরনো দুই দলের সীমাহীন দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লোভ থেকে মুক্তি চায়। বক্তারা অভিযোগ করেন, বড় দুই দল এখনও প্রশাসন ও সরকারি যন্ত্রপাতিকে রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
বক্তারা আরও বলেন, এনসিপির রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি একটি নীতি ও নৈতিকতার প্ল্যাটফর্ম। দেশের মানুষ এখন নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব এবং পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে। হাসনাতের বক্তব্যে সেই পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ়ভাবে ফুটে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনসিপি ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। দলটি বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কাঠামো জোরদার করছে, যা ইঙ্গিত দেয়, তারা আসন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে এনসিপির ভিত্তি এখন দৃশ্যমানভাবে শক্ত হচ্ছে।
সভা শেষে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে এখন জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। দল বা ব্যক্তি নয়, এখন সময় নীতির জয় দেখার। আমরা সেই নীতির রাজনীতি করছি।”
তিনি বলেন, এনসিপির লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, বরং একটি টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন হবে স্বাধীন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আমরা চাই—দিনশেষে ভোট জিতুক গণতন্ত্র, হাসুক বাংলাদেশ।”
ঝালকাঠির এই সভা শেষ হয় দলীয় স্লোগান ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। উপস্থিত নেতারা একে এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে অভিহিত করেন।
— একটি বাংলাদেশ অনলাইন