সিপিবি নেতৃত্বে নতুন বামফ্রন্ট এখন সময়ের দাবি: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রখ্যাত লেখক ও অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি করতে হলে এখনই প্রয়োজন একটি নতুন বামফ্রন্ট, যা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতৃত্বে সকল বামপন্থী ও সমাজবিপ্লববাদী শক্তিকে একত্রিত করবে। শুক্রবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “যারা সমাজবিপ্লবে বিশ্বাস করে, তাদের এখনই একটি যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে হবে। ১৯৫৪ সালে আমরা একটি যুক্তফ্রন্ট দেখেছি। কমিউনিস্ট পার্টি সেই যুক্তফ্রন্ট গঠনে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে নেজামী ইসলামী পার্টি উঠে আসে এবং তারা শর্ত দেয় যে কমিউনিস্ট পার্টিকে যুক্তফ্রন্টে নেওয়া যাবে না। আজ পেছনে ফিরে দেখলে বোঝা যায়, সেটি ভুল যুক্তফ্রন্ট ছিল। আজকে যা দরকার, তা হলো সমাজবিপ্লবীদের যুক্তফ্রন্ট।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দল একাই সমাজবদল আনতে পারবে না। সব বামপন্থী দলকে, যারা সমাজবিপ্লবে বিশ্বাস করে, একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে হবে। কারণ, তারা সবচেয়ে সুসংগঠিত এবং বড় সংগঠন। এই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে, হয়তো ক্ষমতা দখল করতে পারবে না, কিন্তু জনগণ দেখবে যে অন্তত একটি সত্যিকার জায়গা আছে দাঁড়ানোর।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চরম দক্ষিণপন্থীরা নির্বাচিত হয়েছে। কারণ, ছাত্রদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। যারা বুর্জোয়া রাজনীতি করে, ছাত্ররা তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। বিজয়ীরা শিক্ষার্থীদের কাছে দাতব্য কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়। ছাত্ররা বিকল্প খুঁজছে, কিন্তু পাচ্ছে না।”

কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, “আমরা বাঙালি জাতি বারবার লড়াই করে বিজয় অর্জন করি, কিন্তু তা ধরে রাখতে পারি না। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থানে বরং বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রেণিবৈষম্য থেকে সামাজিক বৈষম্য—সবই বেড়েছে।”

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, “জমি বর্গা দেওয়া যায়, কিন্তু স্বার্থ বর্গা দেওয়া যায় না। প্রান্তিক জনগণ এবং দেশের মেহনতি মানুষ যদি একজোট না হয়ে সংগ্রাম না করেন, তবে শোষণ চলতে থাকবে। সংগ্রাম কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বহু মানুষ ভূমি ও জীবিকা হারিয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে—উত্তরবঙ্গ থেকে সুন্দরবন, রংপুর থেকে কক্সবাজার—হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন।”

তিনি সমাজে বৈষম্যকে দৃশ্যমান ও পরোক্ষ দুইভাবে উল্লেখ করে বলেন, “দেশে আইন আছে, স্থায়ী ঠিকানা না থাকলে চাকরি দেওয়া যাবে না। তাহলে বেদে জনগোষ্ঠীর সন্তানরা শিক্ষিত হলেও কি প্রজাতন্ত্রের চাকরি করতে পারবে? আইন সবসময় ভালো বা সুরক্ষা দেয় এমন নয়।”

কনভেনশন সকাল ১১টায় গণসংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৫৫টি জাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী নেতা রেবেকা সরেন।

কনভেনশনের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশে বামপন্থী এবং সমাজবিপ্লবী শক্তি এখন একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ অনুভব করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত