এনায়েতের জবানবন্দিতে ষড়যন্ত্রের নেটওয়ার্ক ফাঁস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
এনায়েতের জবানবন্দিতে ষড়যন্ত্রের নেটওয়ার্ক ফাঁস

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন সরকার গঠনের এক বড় ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম (মাসুদ করিম) রিমান্ডে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পুরো পরিকল্পনার চিত্র উন্মোচন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি নতুন সরকারের সম্ভাব্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নামও প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এনায়েত করিমের সঙ্গে দেশের প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাংবাদিক এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। দেশ-বিদেশে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা সরকার পতনের পরিকল্পনা করেন। সেই বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের বেশ কিছু পরিচিত মুখ।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে একজন অর্থনীতিবিদের নামও ঠিক করা হয়েছিল। এমনকি এনায়েত করিম বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন বলে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ আছে।

আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এনায়েত করিমকে ছয় কোটি টাকা দেয়। জবানবন্দিতে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিদেশযাত্রায় ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের বিদেশে যেতে না পারার বিষয়টির সঙ্গেও এই তদন্তের সম্পর্ক থাকতে পারে।

এই ঘটনার পটভূমি তৈরি হয় এমন সময়ে, যখন ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্র হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ এনায়েত করিমকে আটক করে। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক বলে দাবি করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তার পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও স্বীকার করেন, ২০১৪ সালে বিএনপি ভাঙার অভিযানে তিনি ডিজিএফআই ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহযোগিতায় কাজ করেছিলেন। এছাড়া ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি দেশে এসে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ শুনে আদালতের কাঠগড়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন এনায়েত করিম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত