প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লা লিগার মঞ্চে আবারও নিজেদের রাজত্ব দেখালো রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আলোয় উজ্জ্বল এক রাতে এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভালেন্সিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। শক্তিশালী রিয়ালের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ভালেন্সিয়া, যারা পুরো ম্যাচে বল দখল থেকে গোলের সুযোগ—কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখাতে পারেনি।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল। এমবাপ্পে যেন ছিলেন গোল খরায় নয়, বরং গোল উৎসবে। খেলার শুরুতেই পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এই ফরাসি সুপারস্টার। ২০০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি-র পেছনে রিয়াল যে ভুল করেনি, তার প্রমাণ মিলছে প্রতি ম্যাচেই। লা লিগায় টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পাওয়া এই তারকার ধারাবাহিকতা এখন ইউরোপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রথম গোলের পর রিয়ালের আক্রমণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ আর বল দখলে ৬৫ শতাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রাখে আলোনসোর দল। ৩১তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে আর্দা গিলেরের বাড়ানো ক্রস পেয়ে দারুণ ভলিতে গোল করেন এমবাপ্পে। স্টেডিয়ামজুড়ে মুহূর্তেই তৈরি হয় উল্লাসের ঢেউ। দুই গোলের লিডে যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে রিয়াল।
তবে এমবাপ্পে থেমে গেলেও থামেননি অন্য তারকারা। ৪২তম মিনিটে আলভারো কারেরাস ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় রিয়াল। এবার ভিনিসিউস জুনিয়র সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তার নেওয়া স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন ভালেন্সিয়ার গোলরক্ষক। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সামান্য হতাশা দেখা দিলেও, সেই হতাশা মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি।
দুই মিনিট পরেই মাঠে জ্বলে ওঠেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। ফেদেরিকো ভালভের্দের দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ফাঁক গলে যান তিনি। পেনাল্টি এলাকার বাইরে থেকে জোরাল শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্ট দিয়ে। তার এই গোল যেন কাব্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক—দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দেন ইংল্যান্ডের এই তরুণ সেনসেশনকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়ালের আক্রমণ থামেনি। জাবি আলোনসোর কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দলটি প্রতিটি পজিশনে আধিপত্য দেখিয়েছে। মাঝমাঠে বেলিংহ্যাম, ভালভের্দে ও কামাভিঙ্গার সমন্বয়ে রিয়ালের গতি ও ছন্দ ছিল অনবদ্য। প্রতি আক্রমণে মনে হচ্ছিল, আরও একটি গোল যে কোনো সময় আসতে পারে।
শেষ দিকে পরিবর্তন হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ আলভারো কারেরাস। খেলা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকেও যোগ দেন স্কোরশিটে। রদ্রিগোর প্রচেষ্টা রক্ষণে প্রতিহত হলে রিবাউন্ড বল পেয়ে দূরপাল্লার এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই লেফট-ব্যাক। তার এই গোল দর্শকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দেয়। রিয়াল যেন এই রাতে তাদের ফুটবলের কবিতা লিখে ফেলল, যার প্রতিটি ছন্দে ছিল নিখুঁততা ও সৌন্দর্য।
ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং লিগে শীর্ষে অবস্থান আরও মজবুত করলো। ১১ ম্যাচে ১০ জয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন দৃঢ়ভাবে এক নম্বরে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে।
রিয়ালের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে বড় অবদান নতুন কোচ জাবি আলোনসোর। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের মিশেলে তিনি দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ম্যাচ শেষে আলোনসো বলেন, “দল হিসেবে আমরা এখন সঠিক পথে আছি। এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যামের মতো খেলোয়াড়রা শুধু গোল করছে না, তারা দলের মনোবলও বাড়িয়ে তুলছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।”
এদিকে এমবাপ্পে ম্যাচশেষে বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রতিটি গোল আমার জন্য বিশেষ। আমরা এখন একে অপরের খেলা বুঝে গেছি, মাঠে যোগাযোগ দুর্দান্ত। আমি আনন্দিত যে আমার গোলগুলো দলের জয়ে ভূমিকা রাখছে।”
লা লিগার মৌসুমের এক-তৃতীয়াংশ শেষ না হতেই রিয়াল মাদ্রিদ যেন তাদের স্বপ্নের গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছে। গ্যালাকটিকো যুগের নতুন সংস্করণে এমবাপ্পে, বেলিংহ্যাম, ভিনিসিউস ও রদ্রিগোরা হয়ে উঠেছেন আধুনিক ফুটবলের নতুন প্রতীক। ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে এই বড় জয়ে তারা শুধু তিন পয়েন্ট অর্জন করেনি, বরং জানিয়ে দিয়েছে—ইউরোপের ফুটবলে রাজত্বের মুকুট ফেরত পেতে তারা প্রস্তুত।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আলোয় ঝলমল করছিল এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যামের নাম। রিয়াল সমর্থকদের মুখে তখন একটাই স্লোগান—“হালা মাদ্রিদ!”