হাসিনা, জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্য শেষ পর্যায়ে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার
জয়-পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদের অনৈতিক বরাদ্দের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিনটি পৃথক মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই তিন মামলায় মোট ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছেন।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে দুই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এদিন মোট তিনজন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য আদালত আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এদিন তার সাক্ষ্য শেষে আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য খোরশেদের পক্ষে তাকে জেরা করেন খোরশেদের আইনজীবী। তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। এই মামলায় এপর্যন্ত ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাজউকের গুলশান জোনের সাবেক পরিচালক তানজিল্লুর রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এদিন আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য খোরশেদের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা করেন তার আইনজীবী শাহিন আহম্মেদ। এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।

তৃতীয় মামলায়, যেখানে শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এদিন কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী ৬ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এই মামলায় ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, “শেখ হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে করা তিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও জয়ের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা চলমান। আর পুতুলের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী ৬ নভেম্বর হবে। আইন অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরার মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়। আমরা আশা করছি যথা নিয়মে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।”

এ মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। প্রথম মামলায় ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আফনান জান্নাত কেয়া ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউক-এর সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

দ্বিতীয় মামলায় ১৪ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দু’জনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, রাজউক-এর সাবেক সদস্যরা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীরাও।

তৃতীয় মামলায়, ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদি হয়ে শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা এবং রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর ফলে মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরার মাধ্যমে আদালত নির্ধারণ করবে যে, সরকারি সম্পদ বরাদ্দ ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত। মামলাগুলোতে অভিযোগ ও সাক্ষীর জবানবন্দি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার অংশ। আদালতের এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হলে দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

শুধু কোর্ট প্রক্রিয়া নয়, এই মামলাগুলো জনগণের নজরেও রয়েছে। কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের আইন আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত