কিছুদিনের মধ্যেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
ক্ষমতায় এলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করবে জামায়াত

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র উমরা পালন ও যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই আমাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করব। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য জামায়াতে ইসলামি সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা সেই দায়িত্বই পালন করতে চাই।” তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াত।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামি বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা জটিলতা ও মেরুকরণ চলছে, তখন জামায়াতের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের আমির আরও বলেন, “রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়, এটি জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হোক।”

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হোক। তাঁর ভাষায়, “দেশের বাইরে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।”

বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে দলীয় অবস্থান ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। ডা. শফিকুর রহমান শান্ত, সংযত ও দৃঢ় ভঙ্গিতে বলেন, “গণতন্ত্র মানে একমত হওয়া নয়, মতানৈক্যই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন মতবিরোধ বা বিভাজনে রূপ না নেয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—দেশের কল্যাণ, মানুষের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা।”

তিনি আরও বলেন, “যে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে সবাই নিজের মতামত জানাতে পারবে—সেই দেশই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আমরা চাই, বাংলাদেশের রাজনীতি হোক পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল এবং দেশমুখী।”

দেশে ফেরার পর দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন জামায়াতের এই নেতা। দলের কেন্দ্রীয় অফিসের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত এখন ধীরে ধীরে নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের লক্ষ্যে দলীয় কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই ঘোষণা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। কারণ সম্প্রতি কয়েকটি জোটভিত্তিক আলোচনায় জামায়াতের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। দলটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে, তবে সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ছিল গণমাধ্যমের প্রতি আস্থার বার্তাও। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম দেশের চেতনা, গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি। সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনন্য। আমরা চাই, আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান।”

সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একাধিক সভা ও মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রবাসীদের অনেকেই দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী—এমন তথ্যও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, জামায়াত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে সচেষ্ট।

জামায়াতের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর সংগঠনটি নির্বাচনী প্রচারণা ও নীতিনির্ধারণে নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করবে। এতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও কর্মসংস্থানের ইস্যু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের প্রত্যাবর্তন মানে শুধু একটি দলের সক্রিয় হওয়া নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে একটি নতুন সমীকরণের সৃষ্টি। এ প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে তাঁরা “রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ” বলেই মনে করছেন।

তবে তিনি নিজে বললেন ভিন্ন কথা—“আমরা কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নই, বরং দেশ ও জাতির কল্যাণে অংশীদার হতে চাই। প্রতিটি দল যদি জনগণের স্বার্থে কাজ করে, তবে বাংলাদেশ হবে শান্তি ও উন্নয়নের দেশ।”

তার সংযত উচ্চারণ ও ইতিবাচক মনোভাব সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর এই সফর-পরবর্তী বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সবাই এখন অপেক্ষায়—কখন এবং কাদের নাম ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত