২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১০১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬ বার
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১০১

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু আরও বিস্তৃতি লাভ করছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজার একশত একাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শহরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষভাবে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে আরও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১১০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এটি শুধু গত একদিনের হিসাব। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা ৭৩ হাজার ৯২৩ জনে পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন। এ বছর মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮। এই পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা শুধু হাসপাতালের বিষয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা মূলত শহরাঞ্চলের পানি জমে থাকা স্থানে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে জল জমে থাকলে মশা দ্রুত繁殖 করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাসা, অফিস, স্কুল এবং পাবলিক প্লেসে জল জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ডেঙ্গু রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর, তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনের ব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা যায়। এর প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পানীয় গ্রহণ, বিশ্রাম, এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণের ওষুধ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি যাদের রক্তের প্লেটলেট সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি থেকে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-শহরে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জল জমে থাকা এলাকা, অপরিষ্কার নর্দমা এবং আবর্জনা ফেলা স্থানগুলো ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জানানো হয়েছে। তারা বলছে, জনগণকে নিজ নিজ ঘর-বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মশা নিধনের জন্য সরকার বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং পাবলিক প্লেসে মশক নিধন ও কিট বিতরণ করছে।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে আবহাওয়া ও বর্ষার অবশিষ্ট জল জমে থাকার কারণে মশার প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সময়ে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে শহরের পানি নিষ্কাশন, কচুরিপানা পরিষ্কার এবং আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় হতে হবে। যদি সাধারণ মানুষও নিজ বাড়ি ও আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে, তবে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গুর কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং ইতিমধ্যেই শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত রক্ত, ওষুধ, ফ্লুইড এবং মেডিকেল সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি জনগণ সচেতন না হয় এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব এড়ায়, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

চলতি বছর ইতিমধ্যে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এটি শুধু দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপই সৃষ্টি করছে না, বরং পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করছে। আক্রান্ত পরিবারগুলোতে চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মক্ষম মানুষের অসুস্থতার কারণে আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, প্রতিটি নাগরিককে সতর্ক থাকা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানো এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে, চলতি বছরের ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হাজারের বেশি মানুষ ভর্তি হচ্ছে এবং মৃত্যুও ঘটছে। এই সংক্রমণ প্রতিরোধে সকলের সচেতনতা ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ একসাথে কাজ করলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নাগরিকদেরকে বিশেষভাবে ঘরবাড়ি, আশেপাশের পরিবেশ, পানি জমে থাকা স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং মশা নিধনে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর মাধ্যমে শুধু নিজের নয়, পরিবারের এবং সম্প্রদায়ের জীবনও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত