বসনিয়ায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫ বার
বসনিয়ায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

উত্তর-পূর্ব বসনিয়ার তুজলা শহরের এক বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের কিছু পর বৃদ্ধাশ্রমটির সপ্তম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের অন্যান্য অংশে। পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দমকলকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী এবং বাসিন্দারা রয়েছেন। প্রায় ২০ জনকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বসনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নর্মিন নিকশিচ এই ঘটনাকে “একটি ভয়াবহ বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে সরকার সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।”

বৃদ্ধাশ্রমের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী রুজা কাজিক জানান, “আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনি। জানালা দিয়ে দেখি উপরের তলা থেকে জ্বলন্ত বস্তু পড়ছে। আমি দৌড়ে করিডোরে বের হতে পারি। উপরের তলায় যারা ছিলেন, তাদের অনেকেই শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন এবং তাড়াতাড়ি বের হতে পারছিলেন না।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনের ওপরের তলা থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী অবিরাম কাজ করছে। তারা চেষ্টা করছেন আরও বড় ক্ষতি রোধ করতে এবং যাদের উদ্ধার করা সম্ভব তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে।

বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালক মিরসাদ বাকালোভিচ বলেন, “যাদের এই আগুনে ক্ষতি হয়েছে, তাদের সবাইকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। যা ঘটেছে, তা দেখার পর আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দুঃখজনক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।”

বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ত্রিপক্ষীয় প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান জেলকো কমশিচ নিহতদের পরিবারে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, “আমাদের প্রার্থনা আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য। আমরা সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।”

তুজলা ইউনিভার্সিটি ক্লিনিক্যাল সেন্টারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কয়েকজন রোগী কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের বিষক্রিয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট ও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, তাই দ্রুত চিকিৎসা অপরিহার্য।

স্থানীয়রা বলছেন, বৃদ্ধাশ্রমটি পূর্বে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা এবং বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে যান। অনেকেই নিরাপদে বাইরে বের হতে পারেননি। এই ঘটনা পুনরায় সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, বৃদ্ধাশ্রমের মতো জায়গায় অগ্নি সুরক্ষা ও জরুরি নিরাপত্তার ব্যবস্থা অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান, বৃদ্ধাশ্রম ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুনের ঝুঁকি কমানোর জন্য সঠিক পরিকল্পনা, জরুরি বহির্গমনের পথ, নিয়মিত নিরাপত্তা চেক এবং যথাযথ ফায়ার এক্সিট ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, অগ্নি সুরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকলে এমন বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এই দুর্ঘটনা শুধু তুজলা শহর নয়, পুরো বসনিয়ার জন্য শোকের খবর। নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও স্থানীয়রা গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজ দ্রুত আহতদের সাহায্য করছে।

বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পুনরায় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে যে, বয়সজনিত এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জরুরি দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত