ঢাকায় আসছে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল, এলডিসি উত্তরণ খতিয়ে দেখবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার
ঢাকায় আসছে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল, এলডিসি উত্তরণ খতিয়ে দেখবে

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রপ্তানি খাতকে সামনে রেখে জাতিসংঘের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর ঢাকা সফরে আসছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া এবং তার সম্ভাব্য প্রভাবগুলো সরেজমিনে মূল্যায়ন করা। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতাদের মধ্যে এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্যসহ প্রধান বাজারগুলোতে এ ধরণের শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর প্রভাব সরাসরি রপ্তানিতে দেখা দিতে পারে এবং তা ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের পরিচালক রোনাল্ড মোলেরুসের নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধি দল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতি, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং নীতিগত সহায়তা বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। প্রতিনিধিদল দেশের রপ্তানি খাত, শিল্প উৎপাদন এবং অর্থনীতির বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নীতিনির্ধারণীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে রপ্তানিতে বড় ধরনের শুল্ক হারানোয় দেশে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত যেমন পোশাক, চামড়া ও কৃষিপণ্যকে উল্লেখ করে তারা বলেন, এ ধরনের শুল্ক হারানো দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে পোশাক খাত, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আয় করে, তার উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে রপ্তানির চাহিদা, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন সব ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রভাব মূল্যায়ন করছে এবং রপ্তানির ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সফরের মাধ্যমে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল এই প্রস্তুতিগুলো সরেজমিনে যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি তারা দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নীতিগত সহায়তার সুপারিশও প্রদান করবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ শুধু রপ্তানি খাতের জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি আয় হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রভাবিত হতে পারে। তাই ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ যথার্থ। প্রতিনিধি দলের সফর দেশের এই উদ্বেগগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সফরের পর জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে লড়াই করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং রপ্তানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে। সফরের সময়ে প্রতিনিধি দল দেশের শিল্পাঞ্চল, বন্দরের কার্যক্রম এবং রপ্তানি খাতের বিভিন্ন পর্যায় সরেজমিনে দেখবে। তারা দেশের নাগরিক সমাজ ও বাণিজ্যিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে যাতে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান সমূহ সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।

সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রপ্তানি খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়িক ও শিল্প সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতি সতর্ক নজর রাখা হবে। এই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।

এই সফর দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রপ্তানি খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতা থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারকরা সবাই জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে আছেন। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত