ঈদের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১০৫ বার
স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের মূল্যপতনের ঘোষণা এসেছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের মাঝেই নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমানো হয়েছে, ফলে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে স্বস্তির আভাস মিলছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। নতুন এই মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। হঠাৎ এমন বড় সমন্বয় বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হারও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বৈশ্বিক প্রবণতার প্রভাব দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা। এই দামের পরিবর্তন স্বর্ণক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও এখনও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এর আগে গত ১৪ মার্চও স্বর্ণের দামে সমন্বয় আনা হয়েছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কে দাম কমানোয় বাজারে একটি নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৪৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতারই প্রতিফলন। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে অধিকাংশ সময়ই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণবাজারে স্থিতিশীলতা এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্য হ্রাসের প্রভাব পড়েছে। এবার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হবে। ফলে উৎসবের আগে অলংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন ক্রেতারা।

রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছরে ২৮ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। আগের বছর তুলনায় এ বছরও বাজারে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের আগে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিয়ে ও উৎসবকে কেন্দ্র করে অলংকার কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। এই সময়ে দাম কমে আসা ক্রেতাদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম আবার বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর।

ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, দাম কমার ফলে বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে উচ্চমূল্যের কারণে এখনো অনেক ক্রেতা দ্বিধায় রয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, দাম আরও কমলে তারা কেনাকাটায় আগ্রহী হবেন।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ঈদের আগে স্বর্ণ ও রুপার দামে এই পতন বাজারে নতুন গতি সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে আপাতত ক্রেতাদের জন্য এটি একটি স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com