ঈদের আগে রুপার দাম কমলো, ভরি ৫৭১৫ টাকা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৯১ বার
রুপার দাম কমলো

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বস্তির বার্তা এসেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি এবার রুপার দামেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে উৎসবের আগে অলংকার ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। নতুন এই মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে রুপার কাঁচামালের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও এই দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দরের ভিত্তিতে ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেট রুপার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৬৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপার ক্ষেত্রে প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। এই মূল্য পরিবর্তনের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য অলংকার কেনা কিছুটা সহজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, নির্ধারিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা, কারুকাজ এবং মানভেদে মজুরির হার কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে। ফলে বাজারে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে গত ১৪ মার্চ রুপার দামে সর্বশেষ সমন্বয় আনা হয়েছিল। তখন ভরিতে ২৯২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৬৫ টাকা। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমানোয় বাজারে একটি নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। এই ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারের অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে অধিকাংশ সময় দাম বেড়েছিল।

রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের দামেও বড় ধরনের পতন এসেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকায় নেমে এসেছে। এতে ভরিতে কমেছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। ফলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে সামগ্রিকভাবে একটি নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের আগে সাধারণত গহনার চাহিদা বাড়ে। এই সময়ে দাম কমে গেলে ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে লেনদেনও বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমার ফলে বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম আরও কমবে কি না তা দেখার জন্য।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈদের আগে রুপার দামে এই পতন বাজারে নতুন গতি সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এটি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে আপাতত ক্রেতাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com