মির্জা ফখরুল: জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা ছিল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার
মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হয় যখন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ টানিং পয়েন্ট, যা রাজনীতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তনের সূচনা করে।

শুক্রবার সকালে মির্জা ফখরুল নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে উপস্থিত হন। নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অতীতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দোয়া ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে জনগণ নস্যাৎ করে দেয়। সিপাহী-জনতার বিপ্লব রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে, যা দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটই তৈরি করেনি, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সচেতনতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালের পর দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলছিল এবং সেই সময়ের ঐতিহাসিক বিপ্লব জনগণের শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতিফলন। এই বিপ্লব প্রমাণ করে, জনতাই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং যে কোনো শক্তিশালী চক্রান্তকে নস্যাৎ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা শুধু রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নয়, এটি দেশের জন্য একটি সমন্বয়মূলক এবং স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের পথ প্রশস্ত করে। এই সময়ের ঘটনাগুলো দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে কারণ তা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে সামনে এনেছে।

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক দল গঠনের ক্ষেত্রে নয়, দেশের জন্য সুশাসন ও স্থিতিশীলতার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, “৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও জনতার আন্দোলন আমাদের শিক্ষা দেয়, দেশের জন্য নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া তিনি বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রজন্মও এই ঐতিহাসিক ঘটনার তাৎপর্য উপলব্ধি করা উচিত। জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই বিপ্লব এক অনন্য উদাহরণ। মির্জা ফখরুলের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও ৭ নভেম্বরের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক এবং তা দেশের সকল স্তরে জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বরের এই বিপ্লব দেশের জন্য শুধু রাজনৈতিক টানিং পয়েন্টই ছিল না, বরং এটি জনগণের সংহতি, একতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল। এই দিনে সিপাহী ও সাধারণ মানুষ তাদের দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতা প্রদর্শন করেন, যা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিকনির্দেশনা প্রবর্তন করে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিএনপির নেতাদের কাছে ৭ নভেম্বর শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ যে সময়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তির পথে এগোয়, তা প্রমাণ করে যে সঠিক নেতৃত্ব এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্র স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হতে পারে না।

এ দিন কেন্দ্রীয় নেতারা সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের প্রভাব এবং জনগণের ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, এই ঐতিহাসিক বিপ্লব আজও দেশবাসীর কাছে প্রেরণার উৎস এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত।

মোটের উপর, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আগমন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং তা দেশের জন্য ছিল এক উল্লেখযোগ্য টানিং পয়েন্ট, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং জনগণের শক্তি ও সচেতনতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত