বদলে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, আশঙ্কা জটিলতার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে এর খসড়া ইতোমধ্যে জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে বেবিচক মনে করছে, প্রস্তাবিত এই সংশোধন কার্যকর হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নিরাপত্তা মূল্যায়নেও বাংলাদেশ ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

বেবিচক সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের আইনের ১৪ ধারায় চেয়ারম্যানকে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি জারি ও সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতার কারণেই আইকাও থেকে পাঠানো প্রস্তাব বা নির্দেশের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। কিন্তু নতুন অধ্যাদেশে রুলস অব বিজনেসের ১৪(ক) অনুচ্ছেদ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হবে, এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে।

আইকাও সাধারণত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে নতুন বিধি বা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর সময় একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। ওই সময়ের মধ্যে মতামত না দিলে প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ে তা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। বেবিচকের মতে, নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে আইকাও নির্ধারিত সময়সীমা মানা সম্ভব হবে না। এতে বাংলাদেশকে “গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যা দেশের বিমান খাতের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

বেবিচক তাই সুপারিশ করেছে, জনস্বার্থে বর্তমান ২০১৭ সালের আইনের ১৪ ধারা অপরিবর্তিত রাখা উচিত। তাদের যুক্তি, বর্তমান কাঠামোয় চেয়ারম্যান দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং সেটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে সংস্থার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। এতে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে দেরি হবে এবং আইকাওর নিরীক্ষায় দেশের কার্যকারিতা দুর্বল হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলে প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া কঠিন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কিত একটি ধারা নিয়েও আপত্তি তুলেছে বেবিচক। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ‘ট্রাভেল এজেন্সি আইন, ২০১৩’-এর আওতায় এ খাত ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রিত। একই বিষয় নতুন অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত হলে আইনগত জটিলতা ও দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। তাই ট্রাভেল এজেন্সি সংক্রান্ত বিধান আগের আইনে বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বেবিচকের মতে, বর্তমান আইনেই বিমান চলাচল নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা ও প্রযুক্তিগত বিধান আন্তর্জাতিক মানে বজায় রাখা সম্ভব। তাই নতুন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ জরুরি। সংস্থাটি বলেছে, ২০১৭ সালের আইনের বর্তমান কাঠামো ও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখাই দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলামও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “২০১৭ সালে গেজেট আকারে অধ্যাদেশ জারি হয়ে সংসদে পাস হয়েছিল। এখন হঠাৎ সেটি কেন সংশোধন করতে হবে—তা পরিষ্কার নয়। বেবিচক চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমে গেলে সেটি আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশনের (আইকাও) মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। আমার মতে, এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে বিস্তারিত পর্যালোচনা করাই শ্রেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত