দীর্ঘতম দাম্পত্য জীবনের স্বীকৃতি পেলেন মিয়ামির দম্পতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা লংজেভি-কোয়েস্ট স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘদিন বিবাহিত দম্পতি হিসেবে। এলেনরের বয়স এখন ১০৭ বছর, আর স্বামী লাইলের ১০৮। বয়সের বাঁধা তাদের ভালোবাসা ও আনন্দকে ছিন্ন করতে পারেনি, এখনও তারা একে অপরের পাশে থেকে প্রতিটি দিন উপভোগ করেন। লাইল বলেন, “আমরা এখনও একসঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসি। হয়তো এই ভালোবাসাই আমাদের দীর্ঘজীবনের গোপন রহস্য।”

তাদের পরিচয় হয় ১৯৪১ সালে, এক কলেজে বাস্কেটবল খেলার সময়। লাইল তখন ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটির হয়ে খেলতেন, আর এলেনর ছিলেন দর্শক। সেই দেখা থেকেই শুরু হয় তাদের দীর্ঘতম প্রেমকাহিনি। পরের বছর ১৯৪২ সালের ৪ জুন, লাইল সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ থেকে তিন দিনের ছুটি পেয়ে বিয়ে করেন এলেনরকে।

কিছুদিনের মধ্যেই লাইল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালিতে যান। এলেনর তখন অন্তঃসত্ত্বা, একা নিউইয়র্কে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়। তিনি নিয়মিত লাইলকে চিঠি লিখতেন, যদিও সেনাবাহিনী তখন সব চিঠি সেন্সর করত। সেই সময়টি কাটে অপেক্ষা আর আশা নিয়ে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

যুদ্ধ শেষে তারা নিউইয়র্কে ফিরে আসেন। একসঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেন, দু’জনে উত্তীর্ণ হন এবং নতুন জীবনের শুরু হয়। সময় পেলেই তারা ঘুরে বেড়াতেন, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন—যেখানে এলেনরের প্রিয় স্থান হলো গুয়াদেলোপ। বয়স বৃদ্ধির পরও এলেনর শেখার আগ্রহ হারাননি; ৬৯ বছর বয়সে তিনি ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটি থেকে শহুরে শিক্ষাবিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তারা মেয়ের কাছে থাকার জন্য মিয়ামিতে চলে আসেন।

এখনও প্রতিদিন তারা একে অপরের পাশে বসে হাসেন, কথা বলেন এবং পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করেন। লাইল বলেন, “আমরা অনেক কিছু করেছি, অনেক কিছু দেখেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আজও আমরা একসঙ্গে আছি—একই ভালোবাসা নিয়েই।”

৮৩ বছরের এই দাম্পত্য জীবন প্রমাণ করে যে ভালোবাসা, ধৈর্য এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা সময়কেও হার মানিয়ে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত